উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ টানা চার দিন কর্ণাটকের (Karnataka) কোডাগুর ঘন জঙ্গল, বুনো হাতির আতঙ্ক আর প্রবল বৃষ্টি। কোনো হলিউড সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, এটি ৩৬ বছর বয়সী আইটি কর্মী জিএস শরন্যার (GS Sharanya) বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প। গত ২ এপ্রিল তাদিয়ানডামোল (Tadiandamol) শৃঙ্গে ট্রেকিং করতে গিয়ে পথ হারানো এই তরুণীকে অবশেষে চার দিনের রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর উদ্ধার করা হয়েছে।
কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা শরন্যা ১৫ জনের একটি দল এবং গাইডের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। নামার সময় ভুল মোড় নেওয়ায় তিনি দলছুট হয়ে পড়েন। ঘন জঙ্গলের মাঝে পথ খুঁজে না পেয়ে সন্ধ্যা ৬:৪৫ পর্যন্ত পাহাড়ের নিচের দিকে হাঁটতে থাকেন তিনি। ফোনে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে সহকর্মী যদুকে বিপদবার্তা পাঠাতে পারলেও, হেল্পলাইনে মেসেজ করার আগেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। নিরুপায় শরন্যা প্রথম রাতটি কাটান একটি ঝরনার পাশে।
শরন্যার এই চার দিনের সফর ছিল ধৈর্য আর মানসিক শক্তির পরীক্ষা:
- দ্বিতীয় দিন: দীর্ঘ পথ হাঁটার ফলে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। দৃশ্যমানতা ভালো থাকায় তিনি একটি উঁচু পাহাড়ে চড়েন যাতে ড্রোন থেকে তাঁকে দেখা যায়। স্থানীয়দের সাহায্য পেতে বারবার চিৎকার করতে থাকেন। তৃষ্ণা মেটাতে ঝরনার জলই ছিল একমাত্র ভরসা।
- তৃতীয় দিন: বুনো হাতির উপদ্রব থাকা সত্ত্বেও সাহায্যের খোঁজে হাঁটা চালিয়ে যান শরন্যা। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। ঐদিন রাতে প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যান তিনি। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি।
- চতুর্থ দিন (উদ্ধার): ভিজে পোশাকেই দুপুরের অপেক্ষা করছিলেন তিনি। খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। ঠিক সেই সময় এক স্থানীয় আদিবাসী মানুষ শরন্যার চিৎকার শুনতে পান এবং তাঁর কাছে পৌঁছান। দীর্ঘ ৯৬ ঘণ্টার লড়াই শেষে উদ্ধার হন তিনি।
রবিবার রাতে যখন শরন্যা বাড়ি ফেরেন, তখন তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শরন্যা জানান, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে। বনের সেই প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি জানতেন কেউ না কেউ ঠিক তাঁকে খুঁজে বের করবে। মজার বিষয় হলো, এত বড় বিপদের পরেও ট্রেকিংয়ের প্রতি ভালোবাসা কমেনি তাঁর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হেসে তিনি বলেন, “হয়তো আগামী গ্রীষ্মেই আবার পাহাড়ে যাব।”
শরন্যার এই ঘটনা ট্রেকারদের জন্য বড় শিক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলছুট হলে আতঙ্কিত না হয়ে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করা এবং পর্যাপ্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখা জরুরি। শরন্যার ক্ষেত্রে ‘ঝরনার জল’ এবং ‘উঁচু স্থান নির্বাচন’ তাঁর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।














