নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিনেই ফ্রিজ হচ্ছে ভোটার তালিকা! তবে কি প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন না বহু জেনুইন ভোটার?

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ।  আর এই দিনটিই রাজ্যের কয়েক লক্ষ ভোটারের কাছে ভাগ্য নির্ধারণের দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।  কারণ, রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০ অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টে বাজার সঙ্গে সঙ্গেই এই দফার ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।  অর্থাৎ, এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আর ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না।  নতুন করে কারও নাম তোলা, কারও নাম বাদ দেওয়া বা কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগও আর থাকবে না।  ফলে যেসব ভোটারের নাম এখনও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বা যাদের নাম ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়েছে, তারা এই দফার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কমিশনের এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।  এই প্রক্রিয়ায় মূলত তালিকায় থাকা ভোটারদের শারীরিক অস্তিত্ব আছে কি না, অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তিনি বাস্তবে বসবাস করেন কি না এবং তিনি জীবিত কি না, তা যাচাই করা হয়।  নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভোটার যদি তাঁর উল্লেখিত ঠিকানায় বসবাস করেন এবং জীবিত থাকেন, তবে নতুন তালিকাতেও তাঁর নাম থাকার কথা। কমিশনের দাবি, যাঁরা দীর্ঘদিন আগে ঠিকানা বদলেছেন বা যাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে, সেই ধরনের অসংগতি দূর করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়।  সেই তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘Under Adjudication’ লেখা ছিল।  এই সমস্যার সমাধানের জন্য কমিশন সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হেয়ারিং এর জন্য ডেকে পাঠায় এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা নথিপত্র যাচাই করে সে সব ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ করছেন।  এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে এখনও পর্যন্ত একাধিক সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।  তবুও বহু বাদ পড়া ভোটারের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি।

নিয়ম অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও নাম না উঠলে অর্থাৎ ডিলেট বা মুছে ফেলা হয় তাহলে ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যাবে।  কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, একদিকে যখন ট্রাইব্যুনালে নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া ও শুনানির প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই ঘনিয়ে এসেছে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার শেষ সময়সীমা।  কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ সময় পার হলেই প্রথম দফার ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।  অর্থাৎ, ওই সময়ের মধ্যে যদি ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে আবেদন করেও বহু ভোটার এই দফার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়, তবে এখন যে আবেদনগুলো জমা নেওয়া হচ্ছে সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী? ট্রাইব্যুনাল যদি পরে রায় দেয়, তাহলে কি সেই ভোটাররা এই দফার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার হারাবেন? এই প্রশাসনিক অসংগতি ও ট্রাইব্যুনাল চালু করতে বিলম্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বহু ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।  যদিও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, “কেউ যদি এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে তিনি চিরদিনের জন্য ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলবেন।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, আজ বিকেল ৩টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেসব ‘ডিলিট’ হওয়া ভোটারের নাম সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হবে না, তারা প্রথম দফার নির্বাচনে আর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। কারণ মনোনয়ন জমার সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে এবং এরপর আর তালিকায় কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।

ফলে ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ থাকলেও, নির্ধারিত সময়সীমার কারণে বহু বাদ পড়া ভোটারের কাছে সেই সুযোগ এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যত কোনো কাজে আসবে না।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন