পুজোর মুখে বিপদে কুমোরটুলি, থমকে যাবে প্রতিমা তৈরির কাজ? কারণ জেনে নিন

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- পুলিশের হুমকি প্রতিবাদে প্রতিমা তৈরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা ৷ স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শশী পাঁজার দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা ৷ বিধায়কের পরামর্শ মেনে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে চিঠি লিখে পুলিশি আচরণের প্রতিবাদও করতে চলেছে বাঙালির আদি-অকৃত্রিম আবেগ কুমোরটুলি ৷

সারা বছর খানিক উপেক্ষিত হলেও পুজোর মরশুমে আট থেকে আশির মন ভালো করে দেওয়া ম্যাজিকের নাম কুমোরটুলি ৷ উত্তর কলকাতা এই সুপ্রাচীন জনপদের মন খারাপ হলে কলকাতার কষ্ট পেতে জানে !

বাংলার সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। এ বছর পুজো শুরু হতে বাকি আর মাত্র 50 দিন ৷ এই পরিস্থিতিতে গোটা কুমোরটুলি বড় বিপদের মুখে। পুলিশের দাবি, প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সাজসজ্জার কোনও কাজে প্লাস্টিক, থার্মোকল থেকে শুরু করে চুমকি ব্যবহার করা যাবে না। এমন ফরমানে চিন্তায় শিল্পীরা ৷ হাতে সময়ও বেশি নেই ৷ এমতাবস্থায় কী করবেন সেটা বুঝতে পারছেন না তাঁরা ৷ কেউ কেউ বলছেন, পুলিশি হাঙ্গামা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে আর প্রতিমাই তৈরি করবেন না !

durga puja 2025

মৃৎশিল্পীদের প্রতিবাদ পত্র

কী অভিযোগ ?

এবার পুজো বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছে ৷ সেপ্টেম্বরে শেষে পুজো হওয়ায় প্রস্তুতির কাজও শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে ৷ সাধারণত, রথযাত্রার সময় থেকে ব্যস্ততা বাড়ে কুমোরটুলির ৷ কাঠামো পুজোর পর থেকে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ ৷ এবার অতিবৃষ্টি কুমোরপাড়ার সমস্যা বাড়িয়েছে অনেকটা ৷ প্রথমে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে তা শুকিয়ে রংয়ের ব্যবস্থা করতে হয় ৷ এখানেই বিপত্তি ৷ টানা বৃষ্টির জেরে কাজের সমস্যা হচ্ছে ৷ প্রাকৃতিক সমস্যার সঙ্গে লড়াইটা মোটেই অচেনা নয় মৃৎশিল্পীদের ৷ সব ঝক্কি সামলেও কীভাবে ঠিক সময়ে প্রতিমাকে মণ্ডপে পাঠাতে হবে তা তাঁদের জানা ৷

durga puja 2025

মৃৎশিল্পীদের প্রতিবাদ পত্র 

কিন্তু পুলিশি ঝামেলা মেটানোর কৌশল তাঁদের অজানা ৷ সম্প্রতি দিনের বিভিন্ন সময় আসছে পুলিশ। এমনিতে বছরে এই সময় ছবি-শিকারিদের ভিড় থাকে কুমোরটুলিতে ৷ কয়েক বছর ধরে ভিড় হচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদেরও ৷ চেনা-জানা কুমোরটুলিকে নতুন করে দেখাতে সকলেই যেন প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন ৷ কিন্তু এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছেন পুলিশ কর্মাীরা ৷ একাধিকবার তাঁরা আসছেন ৷ তাও আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে ৷ মৃৎশিল্পীদের বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করতে বারণ করছেন ৷ পুলিশ অবশ্য এই লাগাতার অভিযানকে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছে ৷ তবে এমন ‘সতর্কবার্তায়’ শিল্পী মহলে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ। বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। পাশাপশি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে চিঠি দেওয়া হবে। প্রতিবাদ জানানো হবে পুলিশের উপর মহলেও।

পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে প্রতিমা তৈরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা

কী বলছে কুমোরটুলি ?

এই প্রসঙ্গে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির কোষাধ্যক্ষ সুজিত পাল বলেন, “পুজোর মুখে লাগাতার পুলিশ এসে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মোটা প্লাস্টিক দিয়ে প্রতিমা চাপা দেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে পাতলা প্লাস্টিক দিতে হয়। তাতে প্রতিমা অক্ষত থাকে। সেটাও করতে দিচ্ছে না পুলিশ। প্রতিমার সাজের কাজের পুরোটা হয় এক বিশেষ ধরনের চুমকি দিয়ে ৷ সেগুলিও ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।”

থার্মকোলের ব্যবহার নিয়েও আপত্তি আছে পুলিশের ৷ কিন্তু প্রতিমার সাজে থার্মোকলের ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শেষমেশ এসব ব্যবহার করা না গেলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে ৷ তাহলে বিকল্প কোন পথে প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলবেন সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না মৃৎশিল্পীরা ৷ সুজিত জানাচ্ছেন, রংয়ের ব্য়বহার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে নির্দেশিকা জারি হয়েছে ৷ সাধারণ রংয়ের বদলে পরিবেশবান্ধব রং ব্যবহার কীভাবে করা যায় তা নিয়ে কর্মশালারও আয়োজন হয় ৷ সেখানে মৃৎশিল্পীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন জিনিস শেখানো হয় ৷ কিন্তু চুমকি বা থার্মোকলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগটা নেই ৷ এমতাবস্থায় সমস্যা আরও গভীর হয়েছে ৷ তাঁরা বিষয়টি বিধায়ক শশী পাঁজাকে জানিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, শিল্পীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় সেটা দেখবেন ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিল্পী বলেন, ” 50 বছর ধরে চুমকির সাজের কাজ করছি। আচমকা আজ বলছে (পুলিশ) করা যাবে না। বিকল্প কী করব? সেটা কিছু বলছে না। এভাবে হয়রানি হলে আমরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হব।”

আরও পড়ুন:- বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র, রান্নার গ্যাসের দাম কমবে অনেকটাই।

আরও পড়ুন:- গাজ়া যুদ্ধ বন্ধের জন্য নেতানিয়াহুকে দেওয়া হল পাঁচটি প্রস্তাব, সেগুলো কি কি ? জেনে নিন

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন