ঝাড়খণ্ডে বাঙ্গালী পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছনোর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের নাম, আলাউদ্দিন শেখ (৩৫)। বাড়ি বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।এই বাঙ্গালী শ্রমিক ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সেখানে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাংলা ভাষা কথা বলা ও বাঙ্গালি হবার জন্য তাঁকে মারধর করে খুন করে এর পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এরই প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীরা। একই সঙ্গে লালগোলা–শিয়ালদহ শাখার রেললাইন অবরোধ করায় একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
এদিন উত্তরবঙ্গ সফরের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেলডাঙার ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন
বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে আপনারা জানেন। আমি বলব শান্তি বজায় রাখুন, কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শুক্রবারও ওঁদের জমায়েত হয়। চিরকালই হয়। আমাদের দুর্গাপুজো, শিবরাত্রিতেও জমায়েত হয়। আমি কি বারণ করতে পারি? ওঁদের ক্ষোভ সঙ্গত। আমি বলব, আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী। শান্তি বজায় রাখুন। সাংবাদিকদের মারধর করবেন না। বাংলায় ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি এর পিছনে আছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।”
বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, কাজের অভাবে রাজ্যের বহু মানুষ ভিনরাজ্যে কাজে যেতে বাধ্য হন, কিন্তু সেখানে তাঁদের নিরাপত্তা নেই , যদিও ঘটনার প্রেক্ষিতে এদিন শাসকদলে স্থানীয় সাংসদ আবু তাহের ও বিধায়ক হাসানুরজামান শেখের বিরুদ্ধেও বলেন , তাঁদের প্রশ্ন, মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হলেও কেন সরব হচ্ছেন না তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদরা?
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে।














