বালোচ লিবারেশন আর্মিকে (Baloch Army) একযোগে জঙ্গি তকমা দিতে চেয়েছে চিন ও পাকিস্তান। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জে তাদের যৌথ প্রস্তাব আটকে দিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেনের মতো দেশ। যদিও মার্কিন সরকার গত অগাস্টেই বিএলএকে জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে। তাদের সহযোগী ’মজিদ ব্রিগেড’ জঙ্গির তকমা দেয় মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই একই দাবি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খারিজ করে দিল আমেরিকা। বিএলএ প্রসঙ্গে আমেরিকার অবস্থান হঠাৎ কেন বদলে গেল তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বালোচ আর্মিকে জঙ্গি তকমা দেওয়ার আর্জি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান এবং চিন।
অভিযোগ, আলকায়েদা, আইএস-এর মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগ রয়েছে বিএলএ-র। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি ইফতিকার আহমেদ দাবি করেন, বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেড আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। তিনি এই সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার দাবি জানান। যদিও পাকিস্তানের দাবির পক্ষে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণের অভাবে আমেরিকা এই দাবি খারিজ করেছে। ফ্রান্স-ব্রিটেনও আমেরিকার অবস্থানকেই সমর্থন জানায়। ফলে বিএলএকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার পাক-চিন উদ্যোগ আপাত বিশ বাঁও জলে চলে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি। গত মার্চ মাসে তারা পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালিয়ে কব্জায় নিয়ে আসে। পরে যদিও পাক সেনাবাহীনির অভিযানে দখলমুক্ত হয় জাফর এক্সপ্রেস। নিহত হন ২১ জন সাধারণ মানুষ এবং চার জন সেনা। সেনা অভিযানে ৩৩ জন বিদ্রোহীরও প্রাণ যায়। বালোচিস্তানে পরিকাঠামো খাতে চিনের বড়সর বিনিয়োগ আছে। সেই কাজও বিদ্রোহীদের জন্য বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএলএকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায় চিনও।














