Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- এক ভারতীয় মহিলার শরীরে পাওয়া গেল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত। এই রক্তের নমুনার নাম CRIB। বিজ্ঞানীরাও খানিক তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুর্লভ এই ব্লাড গ্রুপের হদিশ মেলার পর। ভারত এবং ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগেই খোঁজ মিলেছে CRIB-এর।
ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, CRIB-এর আবিষ্কার ব্লাড ট্রান্সফিউশনের প্রক্রিয়ায় অভূতপূর্ব এবং নয়া দিশার উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ব্লাড গ্রুপের সন্ধানকারী ভারত এবং ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের যৌথ টিম মনে করছে, দুনিয়া জুড়ে প্রসূতিদের চিকিৎসা, গর্ভাবস্থার নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং রক্তদানের প্রোটোকলের ক্ষেত্রে এই CRIB ব্লাড গ্রুপ অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
ভারতের কোথায় হদিশ মিলেছে CRIB-এর?
এই তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধান মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর কাছে কোলার এলাকায় ৩৮ বছর বয়সী এক মহিলার শরীরে দুর্লভ এই রক্ত পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটিই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ ব্লাড গ্রুপ। এখনও পর্যন্ত বিশ্বে কেবলমাত্র বেঙ্গালুরুর এই মহিলার শরীরেই এই CRIB-এর হদিশ মিলেছে।
কর্নাটকের কোলকার জেলার বাসিন্দা ওই মহিলা হার্টের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন কোলারের আর এল জালাপ্পা হাসপাতালে। কিন্তু তাঁকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেখা যায়, কোনও রক্তের সঙ্গেই তাঁর রক্তের গ্রুপ মিলছে না। এমনকি, তাঁর নিজের পরিবারের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনের রক্তও দেওয়া যাচ্ছে না তাঁকে। বাধ্য হয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে রোগিণীকে পাঠানো হয় বেঙ্গালুরুর রোটারি বেঙ্গালুরুর টিটিকে ব্লাড সেন্টারের অ্যাডভান্সড ইমিউনোহেমাটোলজি রেফারেন্স ল্যাবে। সেখানে রক্তের বিশ্লেষণ করে বিস্মিত হন গবেষকেরা। এরপরই অপরিচিত এই রক্তের গ্রুপ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। এভাবেই মানব রক্তের গ্রুপের তালিকায় নয়া সংযোজন করা হয় CRIB-এর।
কী এই CRIB ব্লাড গ্রুপ?
ABO এবং Rh-এর বাইরে এই নয়া রক্তের গ্রুপকে CRIB নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। CRIB অর্থাৎ Chromosome Region Identified As Blood Group. এর সঙ্গে রেয়ার অ্যান্টিজেন গ্রুপের সম্পর্ক রয়েছে। যা ২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোস্যাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশনের তরফে মান্যতা দেওয়া হয়েছে।
CRIB-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, অধিকাংশ মানুষের শরীরে যে অ্যান্টিজেন থাকে, তা এতে অনুপস্থিত। ফলে এই ব্লাড গ্রুপের মানুষদের রক্তদান করা জটিল হতে পারে। কেবলমাত্র অন্য CRIB গ্রুপের ব্যক্তিই রক্তদান করতে পারবেন। যা অত্যন্ত দুর্লভ।
কেন CRIB এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বে এই রক্তের নমুনা সম্পর্কে অবগত লোকের সংখ্যাই হাতে গোনা। তা সত্ত্বেও এর অনুসন্ধান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নবজাতক এবং গর্ভস্থ ভ্রুণের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ব্লাড গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
গর্ভাবস্থায় মা-এর অ্যান্টিবডি ভ্রুণের লাল রক্তকোশগুলিকে হামলা করে। এই অবস্থায় CRIB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় গর্ভাবস্থায় জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ভারত এবং বিশ্বে এর কী প্রভাব?
রেয়ার অ্যান্টিজেন গ্রুপের সন্ধানও ২০১৭ সালে প্রথম ভারতেই মেলে। এবার যুক্ত হল CRIB। নামের শেষ দু’টি অক্ষর এসেছে ইন্ডিয়ার ‘আই’ এবং বেঙ্গালুরুর ‘বি’ থেকে। যেহেতু ভারতে প্রথম পাওয়া গেল ওই বিরল গ্রুপের রক্ত, তাই নামেও জুড়েছে ভারত এবং বেঙ্গালুরুর নাম। চিকিৎসকেরা জানান, যেহেতু বিশ্বের কোনও মানুষের রক্তের সঙ্গেই ওই মহিলার রক্তের গ্রুপ মিলবে না, তাই রক্তের প্রয়োজন পরলে তা মেটানোর আগাম ব্যবস্থা করতে হবে নিজেকেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংরক্ষণ করতে হবে নিজের রক্ত। প্রক্রিয়াকে বলা হয় অটোলোগাস ট্রান্সফিউশন। মিলানের কনফারেন্সে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এর জন্য ওই মহিলাকে নিজের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িতে নিতে হবে। তার পরে নিয়ম করে নিজের জন্যই ‘রক্তদান’ করতে হবে নিজেকে।
আরও পড়ুন:- কলকাতায় পা রাখছেন ফুটবলের রাজপুত্র মেসি, কবে আসছেন? জেনে নিন
আরও পড়ুন:- প্যান কার্ড থাকলেই পাবেন কড়কড়ে 5 লাখ টাকা। শর্তাবলী ও আবেদন পদ্ধতি জেনে নিন














