ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অলঙ্করণকারী প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন (৮৮) ও তাঁর নাতবউয়ের দীপা সেনের (৮২) নাম রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিজেপি ও কমিশনকে সরাসরি নিশানা করেছে রাজ্যের শাসক দল। এবার শিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ময়দানে নামলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন হলেন শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি, তাঁর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের পুত্র। তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের বয়স ৮২ বছর । তাঁরা দীর্ঘ বছর ধরে বীরভূমের শান্তিনিকেতনে বসবাস করছেন। সুপ্রবুদ্ধ বাবু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে দীর্ঘ ৩২ বছর ডিভিসিতে (DVC) কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে অবসর নেওয়ার পর স্থায়ীভাবে শান্তিনিকেতনে থাকছেন।
সুপ্রবুদ্ধ বাবুর দাবি করেন, কাজের সূত্রে বাইরে থাকায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁরা নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ার সময় তাঁদের নামগুলো প্রথমে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন (বিচারধীন) তালিকায় রাখা হয়েছিল। এরপর হেয়ারিং হলে দম্পতি তাঁদের পাসপোর্ট, বিশ্বভারতীর পাঠভবনের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট, চাকরির নথিপত্র ও পেনশন অর্ডার সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেন।
পর্যাপ্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের নাম ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়। এমনকি তাঁদের গৃহপরিচারিকার নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় সুপ্রবুদ্ধ বাবু চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ৮৮ বছর বয়সে এসে এখন আমার আর কিছু করার নেই। যে ব্যক্তি আমাদের নাম বাদ দিয়েছেন, তিনিই উত্তর দিতে পারবেন কেন এমন হলো। তিনি আরও জানিয়েছেন যে তাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করেছেন, কিন্তু ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।














