২০২৫ সাল বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ছিল এক রোলার-কোস্টারের বছর। একদিকে বাজারের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপ; অন্যদিকে প্রযুক্তি, স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ইতিবাচক অগ্রগতি—সব মিলিয়ে অর্থনীতির চিত্র ছিল বৈচিত্র্যময়। চলুন ফিরে দেখা যাক এই বছরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্য।
প্রথমেই বলতে হয় মূল্যস্ফীতির চাপ সম্পর্কে। ২০২৫ সালের শুরুতে বেশ কয়েকটি দেশে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়, যার প্রভাব পড়ে গৃহঋণ, ব্যবসা-ঋণ ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে। তবে বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলা উন্নত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
একই সময়ে চাকরির বাজারেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়। অটোমেশন ও AI-এর কারণে কিছু প্রচলিত চাকরির চাহিদা কমলেও প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক দেশ রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ককে স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে, যা শ্রমবাজারকে আরও আন্তর্জাতিক করে তুলেছে।
২০২৫ সালে ব্যবসায়িক সাফল্যের সবচেয়ে আলোচিত ক্ষেত্র ছিল টেক স্টার্টআপ ও ডিজিটাল অর্থনীতি। ই-কমার্স, ফিনটেক, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি এবং শিক্ষাখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। কিছু অঞ্চলে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে। একই সঙ্গে টেকসই উৎপাদন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বছরের আরেকটি বড় আলোচিত বিষয় ছিল ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল কারেন্সির নীতিগত পরিবর্তন। কয়েকটি দেশ নিজেদের সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) সম্প্রসারণ করে, ফলে ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের অর্থনীতি ছিল চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের মিশেল। একদিকে বৈশ্বিক সমস্যার চাপ, অন্যদিকে উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বছরটি বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।














