প্রতি বছর ২১শে জুলাই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সামিল হন। এই বিশাল সমাবেশের কারণে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ওঠে – ২১শে জুলাই কি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে থাকা অফিসগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়? এই পোস্টে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরব।
আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় সরকারের নিশ্চিন্ত অবসর প্রকল্প, মাসে ৫০০০ টাকা পেনশন ! জানুন বিস্তারিত
২১শে জুলাই শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপট
এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই, তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে ‘মহাকরণ অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর তৃণমূল কংগ্রেস এই দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এটি এখন শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অন্যতম বৃহৎ শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চও বটে।
২১শে জুলাই কি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো – না, ২১শে জুলাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত কোনো পূর্ণ দিবস ছুটি নয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের (অডিট ব্রাঞ্চ) দ্বারা প্রকাশিত ছুটির তালিকায় ২১শে জুলাই শহীদ দিবসকে ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা থাকে না। তবে, এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন:
- পূর্ণ দিবস ছুটি নয়: এটি অন্যান্য সরকারি ছুটির (যেমন – দুর্গাপূজা, ঈদ, স্বাধীনতা দিবস) মতো পূর্ণ দিবস ছুটি নয়। সমস্ত সরকারি অফিস নিয়ম অনুযায়ী খোলা থাকে।
- বিশেষ বিজ্ঞপ্তি: কলকাতায় বিশাল জনসমাবেশের কারণে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ জনজীবন প্রভাবিত হয়। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে রাজ্য সরকার অনেক সময় একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই বিজ্ঞপ্তিতে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সরকারি অফিসগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের পরে (সাধারণত দুপুর ২টোর পর) ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে, যাতে কর্মীরা যানজটের আগেই বাড়ি ফিরতে পারেন।
- বিভাগীয় সিদ্ধান্ত: কোনো কোনো ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট সরকারি বিভাগ বা দপ্তর তাদের কর্মীদের সুবিধার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- কর্মীদের জন্য পরামর্শ: আপনি যদি একজন সরকারি কর্মচারী হন, তাহলে ছুটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনার দপ্তরের জারি করা সর্বশেষ সার্কুলার বা বিজ্ঞপ্তির উপর নজর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। শুধুমাত্র সাধারণ খবরের উপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশ মেনে চলাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন : ‘ভয় পাবেন না, বুক চিতিয়ে লড়ব’ ! সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা মিঠুনের
আরও পড়ুন : টাকা না থাকলেও চালানো যাবে অ্যাকাউন্ট ! ব্যাংক গুলির তরফে বিরাট সুখবর














