অটিস্টিক হলেও প্রতিভাবান তারা, বিশ্ব অটিজম দিবসে সচেতনতা প্রয়োজন

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- অটিস্টিক মানুষ যারা নানান সমস্যার সম্মুখীন হন তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই 2 এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস (World Autism Awareness Day) হিসেবে পালন করা হয় । অটিজম আজীবনের এক এমন সঙ্গী যা মানুষের সামাজিক জীবন এবং দৈনন্দিন কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে । যদি সময়মতো রোগ ধরা পড়ে এবং সংবেদনশীলভাবে তার যত্ন নেওয়া হয় তাহলে এই রোগ নিয়েও সুন্দর, সৃজনশীল জীবনযাপন করা যেতেই পারে ।

অটিজম রোগ কী ?

অটিজম রোগ অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার নামেও পরিচিত । এটি একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার যা সামাজিকীকরণ এবং যোগাযোগ করার ক্ষমতা-সহ অনেক মৌলিক দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতার বিকাশকে প্রভাবিত করে । সাধারণত 3 বছর বয়সের আগেই এই রোগ (World Autism Awareness Day) প্রকাশ পায় কিন্তু সারাজীবন ধরেই এই সমস্যাকে বহন করতে হয় ।

গবেষণায় জানা গিয়েছে, পরিবেশের প্রভাবের পাশাপাশি জিন শিশুর বৃদ্ধিকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যাতে ASD দেখা দিতে পারে । সময়ের আগেই শিশুর জন্ম, পারিবারিক ইতিহাস, বাবা মায়ের বয়স বেশি হওয়ার কারণগুলিও রয়েছে এই রোগের নেপথ্যে।

আরও পড়ুন:- মুসলিমদের সব জমি সরকার নিয়ে নেবে? ওয়াকফ সংশোধনী বিল সম্পর্কে জানুন

অটিজমের লক্ষণ:

অটিজম একটি জটিল অবস্থা, যার লক্ষণ প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে ।

সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া ৷

চোখের মাধ্যমে আবেগ বোঝানো কমে যাওয়া ।

নাম ডাকা হলে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসা ।

অন্যদের মুখের ভাব বা আবেগ বুঝতে অসুবিধা হওয়া ।

অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে বা মিশতে আগ্রহ দেখায় না ।

যোগাযোগের অসুবিধা

কথা বলতে দেরি হতে পারে অথবা একেবারেই বলা নাও যেতে পারে ।

কথোপকথনে পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করে ।

অঙ্গভঙ্গি বা মুখের ভাবের মাধ্যমে তার চাহিদা প্রকাশ করতে অক্ষম ।

একই অভ্যাস এবং আচরণের পুনরাবৃত্তি ৷

হাত নাড়ানো, ঘুরানো, অথবা একই কাজ বারবার করা ।

রুটিনের পরিবর্তনের কারণে বিরক্ত বোধ করা ।

কোনও নির্দিষ্ট খেলনা বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম একটি আজীবনের অবস্থা যার কোন প্রতিকার নেই । তবে, প্রাথমিক হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন থেরাপি অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের জীবন উন্নত করতে পারে ।

আচরণগত থেরাপি: এই থেরাপিতে, শিশুকে সামাজিক দক্ষতা, ভাষা এবং আচরণগত উন্নতি শেখানো হয় । এছাড়াও বক্তৃতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে স্পিচ থেরাপি ।

বিশেষ শিক্ষা: কিছু স্কুল অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রম দেয় তাদের চাহিদা অনুসারে শিক্ষাকে সাজিয়ে তোলে ।

অটিস্টিক শিশুদের প্লাস পয়েন্ট:

বিভিন্ন রং ও আকারের ব্লককে নির্দিষ্ট ডিজাইনে সাজাতে পারে অটিস্টিক শিশুরা । যা মাথার যথেষ্ট পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব নয় ।

বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জিনিসকে ঠিকভাবে চিহ্নিত করার ক্ষমতাও রয়েছে অটিস্টিক শিশুদের ।

কোনও জটিল নকশার মধ্যে থেকে সিম্পল প্যাটার্ন খুঁজে বার করতে পারে তাঁরা ।

ইতিহাস (History of World Autism Awareness Day):

2007 সালের 18 ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত 76তম পূর্ণাঙ্গ সভায়, রাষ্ট্রসংঘ 2 এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে মনোনীত করে ৷ যা 2008 সাল থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে ।

রাষ্ট্রসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ, নিউরোডাইভারসিটি ইনস্টিটিউট (আইওএন) এর সহযোগিতায়, নিউরোডাইভারসিটি ব্যক্তিদের দ্বারা নিউরোডাইভারসিটি এবং তাদের সহযোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত পরিচালিত একটি সংস্থা, 2025 সালে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আয়োজন করে ।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

https://www.un.org/en/observances/autism-day

আরও পড়ুন:- এপ্রিল মাসে ফ্রি রেশন সামগ্রীর তালিকা। গ্রাহকরা কোন কার্ডে কত কিলো মাল বেশি পাবে? জেনে নিন

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন