Bangla News Dunia, Pallab : তিনি ক্ষমতায় এলেই ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে, এমনকি শপথগ্রহণের পরেও এমন দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কিন্তু আমেরিকায় (US) পালাবদলের আড়াই মাস পরেও ইউক্রেনে (Ukraine) যুদ্ধ চলছে নিজের গতিতে। ইউক্রেন বা রাশিয়া (Russia) কোনও পক্ষই যুদ্ধে রাশ টানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর ফলে যে ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে, রবিবার সেটা বোঝা গেল।
আরও পড়ুন : এবার পশ্চিমবঙ্গে কেমন গরম সহ্য করতে হবে ? পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর
এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে এক গোত্রে ফেলে সতর্ক করেছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে গেলে তিনি রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর পাহাড়প্রমাণ শুল্ক চাপাবেন। সেই শুল্ক শুধু আমেরিকায় রপ্তানি করা রুশ তেল-গ্যাসের ক্ষেত্রে চাপানো হবে তা নয়, যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনবে তাদেরও দিতে হবে। শুল্কের পরিমাণ ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানান ট্রাম্প।
তাঁর কথায়, ‘যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা সফল না হলে আমি ধরে নেব রাশিয়াই এর জন্য দায়ী। সেক্ষেত্রে আমি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করব।’ রাশিয়ার বাণিজ্য সহযোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করেন, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে বেগ পেতে হবে। কারণ, সব ধরনের তেলের জন্য ২৫-৫০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে।’
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে ভারত ও চিন। ট্রাম্পের ঘোষণা কার্যকর হলে শুধু রাশিয়া নয়, ভারত, চিনও সমস্যায় পড়বে। ইউক্রেনের ওপরও যে তিনি ঘোরতর অসন্তুষ্ট, তা গোপন করেননি ট্রাম্প। সূত্রের খবর, আমেরিকার সঙ্গে খনিজ চুক্তি করা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন জেলেনস্কি। চুক্তির বিনিময়ে তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি চাইছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন জেলেনস্কি। দুই ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের অবস্থান নেতিবাচক। তাঁর বক্তব্য, খনিজ চুক্তি করার পরেই ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কোনও অবস্থায় জেলেনস্কির দেশকে ন্যাটোয় শামিল করা হবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে খনিজ চুক্তি না করলে গভীর সংকটে পড়বে ইউক্রেন।’