Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- চোখের সমস্যা নিয়ে আমাদের সমাজে খুব একটা জাগরণ এখন পর্যন্ত জন্মায়নি মানুষের মধ্যে। অনেকেই এই জিনিসটাকে বেশি গুরুত্ব দেয় না, কিন্তু যত দিন যায় এই সমস্যা অনেকটাই বড় রূপ ধারন করে এবং তখন জলের মোট টাকা বেরিয়ে যায় পকেট থেকে। মানবদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে চোখ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল অঙ্গ। পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে নিজের চোখে আত্মস্থ করার জন্যই সক্রিয় দৃষ্টি শক্তির দরকার।
চোখের সমস্যা আছে কিনা বোঝার উপায়
অনেকেই এমন রয়েছে চোখের সমস্যায় ভোগেন। কোন কোন লক্ষণ প্রকাশ পেলেই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া প্রয়োজন? এছাড়া সতর্কতা মূলক কি কি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সেই সম্পর্কিত তথ্য থাকছে আজকে এই প্রতিবেদনে। এটা মনে রাখা উচিত, চোখ আছে বলেই পৃথিবী এতটাই সুন্দর ও প্রাণ বন্ত। এই জন্য সব সময় উচিত দুই চোখের যত্ন নেওয়া। চোখ না থাকলে এই আলোকময় পৃথিবী এক সময় অন্ধকারময় স্বপ্নে পরিণত হবে।
চোখের সমস্যা কীভাবে চেনা যায়?
চোখ লাল হওয়া এবং জ্বালাপোড়া অনুভব করা :- চোখে পুষ্টি জোগানোর জন্য একাধিক ক্ষুদ্র রক্তনালী রয়েছে। এই রক্তনালী গুলি কখনও কখনও সংক্রমণ বা শুষ্কতা বা অন্যান্য বহিরাগত বস্তুর কারণে জ্বালার সৃষ্টি করতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে। যদি আপনার চোখ এই রকম দুই তিন দিন ধরে জ্বালা করে, লাল হয়ে যায় তাহলে আর দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:- SSC মামলায় নতুন নিয়োগ কবে থেকে শুরু? এবারে কারা যোগ্য? বিস্তারিত জেনে নিন
Eye Problems Symptoms and Treatment
চোখের উপরিভাগে চুলকানির মতো ব্যথা :- আমরা সাধারণত প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার পলক ফেলি। যদি আপনার চোখ পর্যাপ্ত পরিমাণে লুব্রিকেট না করা থাকে, তাহলে চোখের পাতা এবং চোখের পৃষ্ঠের মধ্যে ঘর্ষণ চুলকানির ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। ধুলোর কণা, বালি, এমনকি চোখের পাতা পড়ে গেলেও আপনার চোখে চুলকানি এবং শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত, বাইরের কোন ধুলো বালি কনা চোখ থেকে বের করে দেওয়ার পরে জ্বালা কমে যায়, তবে যদি সমস্যাটি অব্যাহত থাকে, তাহলে চোখ চুলকানো বা ঘষা এড়িয়ে চলুন এবং অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, কারণ চোখ ঘষা কর্নিয়ার ক্ষতি করতে পারে।
ঝাপসা দৃষ্টি :- আপনার চোখে যদি ভালো করে দেখতে না পারেন, সমস্ত কিছু যদি ঝাপসা লাগে তাহলে বেশি দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ এই অবস্থাকে ফেলে রাখলে আপনার দৃষ্টি শক্তি একদম চলে যাওয়ার মতন সম্ভাবনা থাকে।
চোখের সমস্যা ধরা পড়লে কি করবেন?
ভাসমান :- অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো কিংবা উজ্জ্বল কোন আলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের সামনে কিছু দাগ বা ভাসমান বস্তু লক্ষ্য করা যায়। তবে কিছুক্ষণ পরেই এই অবস্থা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এমন অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আপনার চোখটি ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে যাওয়ার দিকে এগোয়।
ব্লাইন্ড স্পট বা স্কোটোমা :- যদি আপনি আপনার চোখের মাঝখানে একটি কালো দাগ বা ঝিকিমিকি দাগ লক্ষ্য করেন, তাহলে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা আপনার চোখের সমস্যা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ এটি স্ট্রোক, টিউমার, গ্লুকোমা, অথবা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস নামক মস্তিষ্কের সম্ভাব্য অক্ষম রোগের মতো গুরুতর চিকিৎসা অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
চোখের সমস্যার সতর্কবার্তা
ফোলাভাব :- হার্পিস সিমপ্লেক্স, গ্রেভস ডিজিজ, অথবা অরবিটাল সেলুলাইটিসের মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা চোখে ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থায়ীভাবে দৃষ্টি শক্তি নষ্ট করতে পারে। কর্নিয়ায় দাগ ফেলতে পারে এবং গ্লুকোমা সৃষ্টিকারী অপটিক স্নায়ুকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চোখের চারপাশে ফোলাভাব সাধারণ সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণেও হতে পারে যা উপরে উল্লিখিত রোগ গুলির মতো ক্ষতিকারক নয়, তবে সঠিক চোখের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।
আলোর প্রতি অতি সংবেদনশীলতা : – আমাদের চোখ প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন মাত্রার আলোর সাথে মোকাবিলা করার জন্য সক্ষম। তবে, যখন চোখ আগত আলোর পরিমাণ সামলাতে অক্ষম হয়, তখন এটি ফটোফোবিয়া বা আলোর সংবেদনশীলতা নামে পরিচিত একটি রোগ সৃষ্টি করে। অনেক সময় কম আলো থেকে বেশি আলোতে তাকালে কিছুটা সময় চোখের সমস্যায় সৃষ্টি হয়। যেমন থিয়েটারে সিনেমা দেখার পর বাইরে হাঁটলে অথবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় যখন আপনার ঘরে সূর্যের আলো পড়ে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী তীব্র আলোক ভীতি আরও গুরুতর কিছুর লক্ষণ হতে পারে।
রাতকানা রোগ :- সাধারণত দেখা যায় যতটা সম্ভব আলো গ্রহণ করার জন্য চোখটির মণি প্রসারিত হবে, যার ফলে আমরা কম আলো যুক্ত পরিবেশেও দেখতে পাব। কিছু গুরুতর চোখের রোগ চোখের এই আলো গ্রহণ বা প্রক্রিয়া জাত করণের ক্ষমতাকে সীমিত করে, যার ফলে রাতে বা কম আলোতে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যাকে রাতকানা রোগ বলে অভিহিত করা হয়।
উপরে উল্লেখিত যে সমস্ত চোখের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, এমন লক্ষণ আপনার চোখে সমস্যা সৃষ্টি করলে দ্রুত সতর্ক হয়ে যান। বেশি দেরি না করে খুব দ্রুত একদম চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিন। চোখ হলো মূল্যবান সম্পদ, এই জন্য আপনার চোখের সমস্যা বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ কর পরেও অবহেলা না করে চোখের যত্ন নিন।
আরও পড়ুন:- ভেজাল-বিষাক্ত পনিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার, কিভাবে ভেজাল পনির চিনবেন জেনে নিন