Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে এনআরসি আতঙ্ক কলকাতায় । পরিবারের দাবি, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এই ভয়েই চরম সিদ্ধান্ত । রবিবার রিজেন্ট পার্কের বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয় । দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে নোট ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম দিলীপ কুমার সাহা (59) । 1972 সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে কলকাতায় আসেন তিনি । বর্তমানে রিজেন্ট পার্ক এলাকার আনন্দপল্লী পশ্চিমে বসবাস করতেন । তিনি দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি স্কুলে অ-শিক্ষক কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন ।
পরিবার সূত্রে খবর, এনআরসি আতঙ্কে আট বছর ধরে আতঙ্কিত ছিলেন । যদি তাঁকে আবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, এই আতঙ্কেই নিজেকে শেষ করেছেন বলে দাবি পরিবারের ।
এক আধিকারিকের কথায়, “আজ সকালে তাঁর স্ত্রী বেশ কয়েকবার দিলীপ সাহাকে ডেকেছিলেন । কিন্তু বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাননি । এরপর তিনি পাশের একটি বাড়ি থেকে তার ভাগ্নিকে ডাকেন । এরপর তাঁরা দরজা ভেঙে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান ।”
মৃতের স্ত্রী আরতি সাহা বলেন, “উনি চিন্তিত ছিলেন যে এনআরসি বাস্তবায়নের পর তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে । এই নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই তীব্র চাপের মধ্যে ছিলেন । অন্য কোনও চিন্তা ছিল না । তিনি শৈশবে কলকাতায় এসেছিলেন । এনআরসি নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন যে তাকে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে এবং তারপর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে । যেখানে তার কেউ নেই । ওনার বৈধ ভোটার আইডি কার্ড এবং অন্যান্য নথি সব রয়েছে ।”
এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিক জানান, সন্দেহ করা হচ্ছে যে ভয়ে তিনি এই কাজ করেছেন । ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে । ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে ।
খবর পেয়েই দিলীপ কুমার সাহার বাড়িতে পৌঁছন বিদ্যুৎমন্ত্রী এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস । পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ।
তাঁর কথায়, “দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ভয় একজন ব্যক্তির উপর এমনই প্রভাব ফেলতে পারে । তারা (কেন্দ্র) এসআইআরের নামে যা শুরু করেছে তা তাদের জনবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে এবং ফলাফল আপনাদের সামনেই রয়েছে ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মৃত ব্যক্তির পরিবারের তরফে অভিযোগের ভিডিয়ো সামনে এনে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে তৃণমূল । সেখানে লেখা হয়েছে, “বিজেপি দেশজুড়ে যেভাবে বাঙালি জাতির উপর আক্রমণ শুরু করেছে, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এনআরসির নোটিশ পাঠাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, SIR করে ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে – এই সকল কিছুর আতঙ্কে দিন গুজরান করতে করতে শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক বাসিন্দা । একটা জনবিরোধী, বাংলা-বিরোধী দল কীভাবে বাঙালিকে শেষ করে দিতে চাইছে নিজের চোখেই দেখুন ।”
আরও পড়ুন:- কলকাতায় পা রাখছেন ফুটবলের রাজপুত্র মেসি, কবে আসছেন? জেনে নিন
আরও পড়ুন:- প্যান কার্ড থাকলেই পাবেন কড়কড়ে 5 লাখ টাকা। শর্তাবলী ও আবেদন পদ্ধতি জেনে নিন














