কোন দেশের পণ্যে কত ট্যারিফ চাপালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? দেখুন তালিকা

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- হোয়াইট হােউসের রোজ় গার্ডেন থেকে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বক্তব্য: আজ আমেরিকার লিবারেশন ডে। আজ রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ঘোষণা করব। ওরা আমাদের উপর দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক চাপিয়েছে। তাই আমরা পাল্টা চাপাচ্ছি। খুব সহজ হিসাব। আমেরিকার সোনার দিন আবার ফিরতে চলেছে। আমেরিকাকে আবার সেরা বানাবো। একটু আগে গোটা বিশ্বে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ চালুর এগজ়িকিউটিভ অর্ডার সই করেছি। বক্তব্যের শুরুতেই ভারতকে আক্রমণ ট্রাম্পের। ভারত-সহ একাধিক দেশের নাম উল্লেখ। মোটরবাইকে ৭০ শতাংশ শুল্ক ধার্য নিয়ে ভারতকে খোঁচা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। চিন, মেক্সিকো এবং ক্যানাডাকেও তীব্র আক্রমণ ট্রাম্পের।

সমস্ত ফরেন মেড অটোমোবাইলের উপর ২৫% ট্যারিফ ঘোষণা।

আমেরিকার বাইরে তৈরি গাড়ির উপরে ২৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আগেই করেছিলেন ট্রাম্প। আজ থেকেই তা লাগু হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই হাততালির ঝড় ওঠে রোজ় গার্ডেনে।

রোজ় গার্ডেনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমেরিকার শুল্ক ফারাক তুলে ধরছেন ট্রাম্প। রীতিমতো তালিকা ধরে তুলনা করছেন ট্রাম্প। জাপান, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ক্যানাডা, চিন, মেক্সিকোর পর ভারতের নাম ট্রাম্পের। ট্রাম্প সাফ বললেন, ‘ভারতও আমাদের থেকে অনেক বেশি শুল্ক নেয়। প্রাইম মিনিস্টার আমাদের এখানে এসেছিলেন। তিনি আমার ভালো বন্ধু। কিন্তু ৫২% শুল্ক নেয়।’

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাম নিয়েও তোপ ট্রাম্পের।

কোন দেশের পণ্যে কত শুল্ক চাপাবে আমেরিকা, তালিকা দিলেন ট্রাম্প:

চিন- ৩৪%

ভারত- ২৬%

ইউরোপীয় ইউনিয়ন- ২০%

জাপান- ২৪%

দক্ষিণ কোরিয়া- ২৫%

সুইজ়ারল্যান্ড- ৩১%

ব্রিটেন- ১০%

মালয়েশিয়া- ২৪%

ব্রাজ়িল- ১০%

ইন্দোনেশিয়া- ৩২%

ভিয়েতনাম- ৪৬%

সিঙ্গাপুর- ১০%

দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০%

ইজ়রায়েল- ১৭%

পাকিস্তান- ২৯%

বাংলাদেশ- ৩৭%

শ্রীলঙ্কা- ৪৪%

বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা আমেরিকায় বিনিয়োগ না করে অন্য দেশে বিনিয়োগ করে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের। এ ব্যাপারে নাম নিলেন অ্যাপল-সহ একাধিক সংস্থার। এর বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা, ‘আপনাদের ট্যারিফ তুলে নিন।’

ট্রাম্প ট্যারিফ কী?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর রকমের পণ্য যায় আমেরিকায়। সেই সব পণ্যের উপর ধার্য হয় আমদানি শুল্ক। যা ইমপোর্ট ডিউটি নামেও পরিচিত। এই শুল্কই বৃদ্ধি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যে শুল্ক তিনি চাপাচ্ছেন, তাকেই ট্রাম্প ট্যারিফ হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে। শুল্ক বাবদ আদায় হওয়া টাকা যাবে মার্কিন কোষাগারে। এর জেরে আমেরিকার সরকারের আয় বাড়বে।

ট্যারিফ চাপানোর নিয়ে ট্রাম্পের যুক্তি

জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে বসার পর থেকেই মার্কিনি পণ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ হারে শুল্ক বসানো নিয়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। এর প্রেক্ষিতেই এসেছে তাঁর রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ভাবনা। পাল্টা শুল্ক চাপানোর পিছনে একাধিক যুক্তি বিভিন্ন সময় নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।

  • ট্রাম্প মনে করেন, ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিনি পণ্যে যে হারে কর চাপায় তা অনায্য। কারণ ওই সব দেশের পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপানো আমদানি শুল্কের হার অনেক কম। এই ফারাক ঘোচাতেই রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বসাচ্ছেন বলে দাবি ট্রাম্পের।
  • আমেরিকার ঘরোয়া উৎপাদন বা ডোমেস্টিক ম্যানুফ্যাকচারিং বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও এই শুল্ক চাপানোর কথা সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক বার বলে বেড়িয়েছেন ট্রাম্প। বিদেশি পণ্যে শুল্ক বসানোর জেরে সেগুলির দাম বেড়ে যাবে মার্কিন বাজারে। এর জেরে আমদানি কমিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরে বেশি পণ্যের উৎপাদনের চেষ্টা চলবে, এটাই ট্রাম্পের ইচ্ছা। এর মাধ্যমে ‘মাগা’র স্বপ্ন সত্যি হবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।
  • আমদানি শুল্ক বসানোর মাধ্যমে সরকারের আয় বাড়াতে চাইছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। শুল্কের মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে নাগরিকদের আয়করে ছাড়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও শুনিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • ট্রাম্পের ট্যারিফ ঘোষণার পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তা হলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত রফা করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা। শুল্ক চাপিয়ে আগেই চাপ তৈরি করে রাখলেন তিনি। যেমন ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের জেরে ভারত বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ট্রাম্পের রোষানল এড়াতেই এই কৌশল নয়াদিল্লির। ট্রাম্পও ঠিক এটাই চান।

    আরও পড়ুন:- পর্যটকদের জন্য সুখবর ! গ্যাংটকে যাওয়া আরও সহজ হয়ে গেলো

ট্যারিফ বাজারে কী ভাবে প্রভাব ফেলবে?

শুল্ক বৃদ্ধির অর্থ জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া। জিনিসের দাম বাড়লেই বিভিন্ন ভাবে তা ব্যবসাকে প্রভাবিত করে।

  • কোনও পণ্যের দাম বাড়লে বিক্রিতে তার প্রভাব পড়ে। তা সে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যই হোক বা বিলাসিতার উপাদান। এর জেরে বিক্রি কমার আশঙ্কা থাকে।
  • করের সঙ্গে দ্রব্যের দামের মোকাবিলা করতে গিয়ে কোম্পনি অনেক সময় জিনিসের দাম বাড়ায় না। এর জেরে কোম্পানি প্রফিট প্রভাবিত হতে পারে। ব্যবসা চালানোর খরচ এর জেরে বেড়ে যেতে পারে।
  • কোনও এক পণ্যের দাম বৃদ্ধি অন্য এক পণ্যের দিকে ঝুকতে বাধ্য করে গ্রাহকদের। কোম্পানিগুলি যে দেশের পণ্যে শুল্ক বেশি, তা না এনে যে দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক কম, সে দেশের পণ্য বেশি আমদানি করা শুরু করে। এর জেরে মার্কেট শিফ্টিংয়ের মতো ঘটনা দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই ট্যারিফ ঘোষণার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হতে পাবে বিশ্ববাণিজ্যের আঙিনায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বিশ্বকে বাণিজ্য যুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। এই ট্যারিফ আমেরিকার বাজারেও মন্দার পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ এবং বাজারসমীক্ষা সংস্থা।

 

 

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন