Bangla News Dunia, সারদা দে :- বেশিরভাগ মৌসুমী ফুলের জন্ম বিভিন্ন দেশের শীতপ্রধান প্রদেশে। আমাদের দেশে শীতকালে এসব ফুল পাওয়া যায়। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও বাড়ছে এসব ফুলের চাহিদা। এসব ফুলের চারা উৎপাদনের জন্য বিদেশ থেকে বীজ আমদানি করা হয়। কিন্তু কৃষকদের বীজ থেকে চারা তৈরি করা খুবই কঠিন, তাই তাদের প্রতিটি বীজ ১-২ টাকায় কিনতে হয় এবং ৩-৪ টাকায় চারা বিক্রি করতে হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের রাজ্যে উচ্চ তাপমাত্রার জন্য বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে এই ফুলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা খুব কঠিন। সেজন্য মৌসুমী ফুলের বীজ থেকে চারা তৈরির খুঁটিনাটি তুলে ধরা হলো।
আসুন প্রথমে জেনে নি কিছু মৌসুমি ফুলের প্রজাতির নাম। যেসব মৌসুমি ফুলের প্রজাতি আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাস্টার, ক্যালেন্ডুলা, ডায়ানথাস, এসকালজিয়া, কসমস, পপি, সালভিয়া, গাঁদা, ফ্লাক্স, রেনানকুলাস ইত্যাদি।
এইবার জেনে নি কিভাবে তৈরি করতে হবে বীজতলা। যে জমিতে বীজতলা তৈরি করা হবে তা সারাদিন সূর্যের আলোতে থাকতে হবে। স্যাঁতসেঁতে বা বর্ষায় কোনোভাবেই বৃষ্টিতে ভিজবেন না। বীজতলার মাটি গ্রীষ্মকালে ভালোভাবে শুকাতে হবে। মাটি ব্যবহার না হওয়া পর্যন্ত পলিথিন ঢেকে রাখতে হবে। বর্ষায় চারা তৈরি করতে হলে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে।
আরো পড়ুন :- অল্প বিনিয়োগে বেশি লাভ পেতে চান ? সঠিক উপায়ে করুন হাঁস পালন
কোনো কৃষক স্থায়ী বীজতলা তৈরি করলে বীজতলা কমপক্ষে দুই ফুট উঁচু হতে হবে এবং ছয় ইঞ্চি ইটের টুকরো বিছিয়ে বীজতলার নিচের অংশ পুরু বালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে এক ফুট বীজতলা ভরাট করার পর বাকি এক ফুট বেলে-দোআঁশ মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। অস্থায়ী বীজতলার ক্ষেত্রে বীজতলার উচ্চতা কমপক্ষে ছয় ইঞ্চি হতে হবে এবং চারপাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই বীজতলার আকৃতি ২.৫-৩ ফুট চওড়া এবং ১০ ফুট লম্বা হলে ভালো হয়। দুই বীজতলার মাঝখানে এক ফুট জায়গা রাখতে হবে।
প্লাস্টিকের ট্রেতে চারা রোপণ করা হলে উপরের অনুপাতে শুধুমাত্র কোকোপিট + পার্লাইট বা মস + পার্লাইট ব্যবহার করা ভালো। উপরোক্ত জিনিসগুলি প্রতি তিন বছর প্রতিস্থাপন করা উচিত । বপনের ১৫ দিন আগে উপরোক্ত দ্রব্যগুলি বীজতলায় ছড়িয়ে দিতে হবে এবং ফরমালিন বা ফরমালডিহাইডের এক অংশ ১০ শতাংশ জলের সাথে মিশিয়ে বীজতলা বা হাইড্রোজেন পারক্সাইড প্রতি লিটার জলে ৩০ মিলি মিশ্রিত করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। উপরোক্ত রাসায়নিক না পাওয়া গেলে জল ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে মেঝেতে ঢেলে কালো পলিথিন দিয়ে ৭ দিন ঢেকে রাখলে রোদে শুকিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আরো পড়ুন :- বিকল্প পথে চাষ করে আয় বাড়াতে চান ? সামান্য বিনিয়োগে করুন এই চাষটি
যদি মাটি খুব অম্লীয় হয় তবে বপনের মাত্র ১৫ দিন আগে প্রতি বর্গমিটারে ১০০ গ্রাম চুন মেশাতে হবে। প্লাস্টিকের ট্রেগুলি বীজতলা হিসাবে ব্যবহার করা হলে, ব্যবহারের আগে আধা ঘন্টা ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত জলে ডুবিয়ে ট্রেগুলিকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। বীজতলায় বীজ বপনের পর বীজকে ভার্মিকম্পোস্ট/পচা সার/পচা গোবর/কেকোপিট দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন। আবহাওয়া খুব ঠান্ডা হলে বীজতলায় বালির পরিমাণ বাড়ালে বীজের অঙ্কুরোদগম বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণত যেসব বীজ প্যাকেটে আসে সেগুলো মিহি করে পাঠানো হয়। তবে বীজের অঙ্কুরোদগম হার বাড়াতে বীজতলায় ২-৩ ঘণ্টা রোদে ২-৩ ঘণ্টা বপন করতে হয়। আবার অনেক বীজ ভালোভাবে অঙ্কুরিত হয় না, সেক্ষেত্রে টিস্যু পেপারে বীজ রাখার পর প্লাস্টিকের ব্যাগে হালকা করে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। যেখানে তাপমাত্রা হতে হবে ৪-৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সংরক্ষণের ২সপ্তাহ পরে, এটি সরাসরি বীজতলায় বপন করতে হবে এবং বীজ অঙ্কুরিত না হওয়া পর্যন্ত বীজতলায় কালো পলিথিন দিতে হবে।