Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চা-বলয়ের জন্য কিছু ঘোষণা করবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন চা-শ্রমিকরা । কিন্তু সেরকম কোনও প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস না-পাওয়ায় নিরাশ চা-বলয় । কেবল তৃণমূল সরকারকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী । কিন্তু লাভের লাভ চা-শ্রমিকদের কিছুই হল না, এমনই কটাক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের ।
শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চা-বলয়ের প্রসঙ্গ তোলেন ৷ তিনি জানান, চা-শ্রমিকদের পিএফের টাকা জমা হচ্ছে না । একের পর এক চা-বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । শ্রমিকদের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা লজ্জাজনক । তৃণমূল সরকার এই সমস্ত লোকেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে ।
বিজেপি এই ধরনের কাজ করবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন ৷ কিন্তু মোদির এই কথায় হতাশ আলিপুরদুয়ার-সহ সংলগ্ন চা-বলয়ের শ্রমিকরা ৷ যা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের সভাপতি প্রকাশচিক বড়াইক ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীকে । আশা করেছিলাম কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করবেন । কিন্তু নিরাশ করলেন উত্তরের চা-বলয়কে ।’’
উল্লেখ্য, 2016 সালে বীরপাড়া সার্কাস ময়দানে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাতটি চা-বাগান অধিগ্রহণ করার কথা বলেছিলেন । কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি । এবারও প্রধানমন্ত্রী চা-বাগানের কোনও ঘোষণা করেন কি না, সেই দিকে তাকিয়ে ছিল উত্তরের চা-বলয় । এবার তেমন কিছু হয়নি ৷
দিও এই নিয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘‘পিএফ কমিশনার বারবার চা-বাগানের মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করছেন ৷ কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম । সেই বিষয়টিই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরলেন । পরিবর্তন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না । তবে আমরা কোনোভাবেই চা-শ্রমিকদের সঙ্গে বঞ্চনা মেনে নেব না । প্রধানমন্ত্রী সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন ।’’
আরও পড়ুন:- এই সংস্থার স্টকের দাম ৭২% বৃদ্ধি মে মাসে, এখন কেনা উচিত হবে? জেনে নিন

আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
তবে শুধু চা-বাগান নিয়ে আরও অনেক প্রত্যাশা ছিল আলিপুরদুয়ারবাসীর ৷ বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার শহরে 1987 সালের পর প্রথমবার কোনও প্রধানমন্ত্রী পা রাখলেন ৷ তাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে অনেকেই হাজির হয়েছিলেন ৷ হাসিমারা বিমানবন্দর থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য এইমসের ঘোষণা হোক, এমনটাই চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ৷ কিন্তু তেমন কিছু হয়নি ৷ এই নিয়েও হতাশ জনতা ৷

আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
তবে মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘‘আমাদের আশা অনেক । কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একটা সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন ।পাশাপাশি জনসভায় যোগ দেন । আমরা চাই হাসিমারাতে এয়ারপোর্ট হোক । আমরা চাই একটা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল হোক । কিন্তু রাজ্য সরকার এয়ারপোর্ট করার জন্য 37 একর জমি দিক । তাহলেই এয়ারপোর্ট সম্ভব । রেলের জমিতে হাসপাতাল হলে রাজ্যের কোনও সমস্যা নেই, সেটা এক লাইন রাজ্য সরকার লিখে দিক, তাহলে হাসপাতাল আমরা করতে পারব । কিন্তু সদিচ্ছার অভাবে এই কাজগুলো হচ্ছে না । কেন্দ্রীয় সরকার তো কাজ করার জন্য তৈরি আছে ।’’














