উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পবিত্র ইদের ভোরে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল জেরুসালেম। ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র জেরুসালেমের ওল্ড সিটির ঠিক কাছেই আঘাত হেনেছে, যা মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের পবিত্রতম স্থানগুলোর অত্যন্ত কাছে। এই উত্তেজনার জেরে দীর্ঘ ছয় দশক পর আল-আকসা মসজিদে ইদের নামাজ পড়া থেকে বঞ্চিত হলেন বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ।
পবিত্র স্থলের দোরগোড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হানা
ইজরায়েলি বিদেশ মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, শুক্রবার ইদ উদযাপনের মাঝেই ওল্ড সিটির একটি পাহাড়ের ঢালে আছড়ে পড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। বিস্ফোরণের ফলে বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং রাস্তাঘাটে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে: “ইরানি শাসন ব্যবস্থা আবারও প্রমাণ করল যে তারা সাধারণ মানুষের এলাকা বা পবিত্র স্থান—সব জায়গাতেই বাছবিচারহীনভাবে হামলা চালাচ্ছে।
An Iranian missile struck Jerusalem during Eid al-Fitr, a few hundred meters from the holiest sites for Muslims, Christians and Jews.
This is the true face of the Mullahs’ so called ‘religious’ regime. pic.twitter.com/m6gG03ZrqR
— Israel Foreign Ministry (@IsraelMFA) March 21, 2026
“
৬০ বছরের প্রথা ভঙ্গ: বন্ধ আল-আকসার গেট
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইজরায়েলি প্রশাসন ওল্ড সিটির তিনটি প্রধান পবিত্র স্থান—মুসলিমদের জন্য আল-আকসা মসজিদ, খ্রিস্টানদের জন্য হলি সেপালকার চার্চ এবং ইহুদিদের জন্য ওয়েস্টার্ন ওয়াল বন্ধ করে দেয়। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ইদের দিন আল-আকসা মসজিদে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হলো।
রাজপথেই ইদের নামাজ
মসজিদে ঢুকতে না পেরে কয়েকশ মানুষ ওল্ড সিটির বন্ধ গেটের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়েই ইদের নামাজ আদায় করেন। আবেগপ্রবণ হয়ে ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক ওয়াজদি মহম্মহ শুয়েইকি বলেন, “আজ আমাদের থেকে আল-আকসাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের জন্য এটি এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক রামদান ও ইদ।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। গবেষকদের মতে, পবিত্র রামদানের শেষ ১০ দিন এবং ইদের নামাজে আল-আকসা বন্ধ রাখা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ধর্মীয় আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং প্রার্থনায় বাধা দেওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জেরুসালেমের এই ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে ইজরায়েলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।














