উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সামাজিক মাধ্যমে আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার ‘অপরাধে’ ১৩ বছরের নাবালিকা বোনকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) রাঁচির গ্রামীণ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত দাদা রাহুল (২৯) এবং তাঁর বাবা সুবোধ পাঠককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাঁচি গ্রামীণ এসপি প্রবীণ পুষ্কর (Praveen Pushkar) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৩ মার্চ রাতু থানা এলাকার জাখরাতান্দ গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত রাহুল তাঁর বোনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন কারণ ওই নাবালিকা রাহুলের শ্যালকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ রাখত। ঘটনার দিন এই নিয়ে বচসা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাহুল বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে অভিযোগ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সবরকম চেষ্টা চালায় পরিবার।
- চিকিৎসকের ভূমিকা: ঘটনার পর সুবোধ পাঠক তাঁর পরিচিত এক চিকিৎসককে ডাকেন। ওই চিকিৎসক নাবালিকাকে মৃত ঘোষণা করে দ্রুত দেহ সৎকারের পরামর্শ দেন।
- প্রমাণ লোপাট: একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দেহটি ঝাড়খণ্ড থেকে বিহারের গয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তড়িঘড়ি দাহ করা হয়।
প্রায় তিন সপ্তাহ পর, গত ২ এপ্রিল বাড়িতে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। পুলিশকে খবর দিলে শুরু হয় তদন্ত, আর তাতেই বেরিয়ে আসে এই হাড়হিম করা সত্য।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকা সুবোধ পাঠকের নিজের সন্তান ছিল না। সুবোধের নিজের মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করার পর, প্রায় ৮ বছর আগে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে ৫ বছর বয়সী এই মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথম থেকেই রাহুল তাঁর এই পালিত বোনকে পছন্দ করতেন না। এমনকি ওই নাবালিকার জন্য পৃথক উনুনে রান্না করা হত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ বিহারের ঔরঙ্গাবাদে গিয়ে নাবালিকার বায়োলজিক্যাল বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও স্ত্রীর মৃত্যুর কারণে তিনি মেয়েটিকে সুবোধ পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এসপি প্রবীণ পুষ্কর জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স চালকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চিকিৎসককে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।














