‘ট্রাম্পের চেয়ে আমাদের হেপাজতে বেশি নিরাপদ আপনার ছেলে’! মার্কিন পাইলটের মাকে বার্তা ইরানের?

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। শুক্রবার ইরানের (Iran) আকাশসীমায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর এক মার্কিন পাইলটের পরিবারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক সংঘাত।

এক মার্কিন পাইলটের মা সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (X) নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে লিখেছিলেন, “ছেলের ইউনিট থেকে কোনো খবর পাচ্ছি না, বুক ফেটে যাচ্ছে। সবাই প্রার্থনা করুন।” এই আবেগঘন পোস্টের পাল্টায় পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসগুলো চরম বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

পাকিস্তানে (Pakistan) অবস্থিত ইরানি দূতাবাস লিখেছে, “নিশ্চিত থাকুন, আপনার ছেলেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ইরানি হেপাজতে বেশি নিরাপদে থাকবে। প্রার্থনা করুন সে যেন মার্কিন উদ্ধারকারী দলের বদলে আমাদের হাতে বন্দি হয়।” দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাস আরও একধাপ এগিয়ে মার্কিন সভ্যতাকে ‘পাথর যুগের’ সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেছে যে, তারা যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সভ্য আচরণ করতে জানে।

শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে ইরান। পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন এ-১০ (A-10) অ্যাটাক জেট ভেঙে পড়ার খবরও মিলেছে। যদিও আমেরিকা এখনও নিশ্চিত করেনি এটি গুলি করে নামানো হয়েছে নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ। বর্তমানে নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে পার্বত্য অঞ্চলে ড্রোন ও হেলিকপ্টার নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯০০-এরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে:

  • ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
  • ১৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
  • ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় দুই ডজন মানুষের।

ইরান ইতিমধ্যেই বাহরাইন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে। যদিও সৌদি ও ইউএই দাবি করেছে তারা অধিকাংশ ড্রোন রুখে দিয়েছে। কুয়েতে আবার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের ভুল নিশানায় ৩টি মার্কিন এফ-১৫ বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা এবং ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধ হয়ত অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ নেই। বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার দিকে— কূটনৈতিক সমাধান নাকি সর্বাত্মক ধ্বংস, কোন পথে হাঁটবে এই দুই দেশ?

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন