ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়ের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বাইকচালকের। মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে সায়েন্স সিটি লাগোয়া বামনঘাটা এলাকায়। গুরুতর আহত চালককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতের নাম মহম্মদ তাজউদ্দিন। ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেছে নিহত বাইক আরোহীর পরিবার। সূত্রের খবর, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন কলকাতা পুলিশের নামে। ২০২৪ সালে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে। পুলিশের গাড়ি বলেই কি এত ছাড়? প্রশ্ন উঠছে।
মৃতের স্ত্রী বলেছেন, ‘ওঁকে (শওকত মোল্লা) বলুন আমার স্বামীকে এনে দিতে। আমার ছোট বাচ্চা অপেক্ষা করবে ওর বাবার জন্য। উনি তো আস্তে গাড়ি চালান। হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালান না।’ মৃতের শ্যালিকা বলেন, ’এত কীসের তাড়া ছিল বিধায়কের, যে একজনকে মেরে দিয়ে যেতে হল। আমরা ছাড়ব না। ওঁর তো আসা উচিত ছিল আমাদের কাছে। এই বাচ্চাগুলোর দায়িত্ব কে নেবে?’ পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এবিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাবে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূলের ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত। বামনঘাটায় তাঁর পাইলট কারের ধাক্কায় জখম হন বাইকচালক মহম্মদ তাজউদ্দিন। তাতে দুমড়ে মুচড়ে যায় বাইক। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। শওকত যে গাড়িতে বসেছিলেন তার ঠিক সামনেই ছিল পুলিশের ওই পাইলট কার। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত করছে লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পুলিশের পাইলট কারের অ্যাক্সেলেটর ভেঙে গিয়েছিল। মৃতের পরিবারের সদস্য়রা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শওকত মোল্লা এবং পুলিশের উপর। পুলিশের তরফে অবশ্য যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ২০২৪ সালের ১০ অগাস্ট বাতিল হয়েছে। এক বছর আগে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশের গাড়ি বলেই কি সাতখুন মাফ? প্রশ্ন উঠছে।














