Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- কাশফুলের বন পেরিয়ে রেলগাড়ি দেখেছিল অপু । কিন্তু দুর্গা শুনেছিল শুধুই রেলগাড়ির আওয়াজ । তার আর দেখা হয়নি রেলগাড়ি । তেমনই আজ থেকে 70 বছর আগে মুক্তি পাওয়া ফিল্ম, যা বাংলাকে দিয়েছিল অস্কারের স্বাদ, সেটিও দেখেননি বহু মানুষ । তাই তাঁদের কথা চিন্তা করে বাংলায় প্রথম সিনেমার দৃশ্যের অডিয়ো বিবরণী তৈরি করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ।
পথের পাঁচালীর দৃশ্যের অডিয়ো বিবরণী তৈরি করেছেন ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আর্য মৈত্র । সমাজের দৃষ্টিহীন মানুষদের কথা চিন্তা করে তাঁর অধ্যাপকের সাহায্যে এই অডিয়ো বিবরণী তৈরি করেন তিনি । ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তরের তৃতীয় সেমেস্টারে ডিসেবিলিটি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান লিটারেচারের প্রজেক্ট হিসেবে এই অডিয়ো বিবরণী বেছে নেন আর্য । সেইমতো অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেন তিনি । তৈরি করেন পথের পাঁচালী ফিল্মের দৃশ্যের অডিয়ো বিবরণী । বদল হয় না কোনও সংলাপের । শুধুমাত্র দৃশ্যে যে সমস্ত ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই ছবিটা বিবরণীর মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলেন ওই ছাত্র ।
আরও পড়ুন:- বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের সেরা পশ্চিমবঙ্গ। আর কি জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় রিপোর্টে ? দেখুন
সিনেমার দৃশ্যের অডিয়ো বিবরণী তৈরি করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র
আর্য বলেন, “আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে পড়ার সময় স্যার সমাজে দৃষ্টিহীন মানুষের অধিকারের কথা বারবার তুলে ধরেছেন । সে ক্ষেত্রে বিনোদনেও তাঁদের অধিকার রয়েছে । তাঁর থেকে আমি জানতে পেরেছিলাম বাংলায় এর আগে কোনও ফিল্মের অডিয়ো বিবরণী তৈরি হয়নি । তখনই আমার এই কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ।”
কিন্তু পথের পাঁচালীই কেন ? এই বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলা ছবির মধ্যে পথের পাঁচালী এক অন্যতম সিনেমা । আমার এই সিনেমাটা নিজের খুব পছন্দের । এই ফিল্মের সঙ্গে প্রত্যেকটা মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে । সেই কারণেই আমি এই সিনেমাটা বেছে নিয়েছি ।”
দৃষ্টিহীনদের জন্য পথের পাঁচালীর দৃশ্য বিবরণী
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসেবিলিটি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান লিটারেচারের সহকারী অধ্যাপক ঈশান চক্রবর্তী নিজে একজন দৃষ্টিহীন মানুষ । কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভবিষ্যতে সমাজ গড়ার কারিগর তৈরি করে চলেছেন তিনি । তিনি বলেন, “দৃষ্টিহীন মানুষদের দেখলেই সকলের সাহায্যের কথা মনে পড়ে । কিন্তু সাহায্য নয়, ওই বিষয়গুলো আমাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে । এই প্রজেক্টটি তারই একটি উদাহরণ । বিনোদনের অধিকার আমাদের সকলের আছে । আমার ছাত্র এই প্রজেক্টটা করায় অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম ।”
শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ হলে প্রথমবার পথের পাঁচালীর দৃশ্য বিবরণী দিয়ে দেখানো হয়েছে ছবিটি । সেখানে আশিজন উপস্থিত ছিলেন । তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন দৃষ্টিহীন । শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরাই নন, বাইরে থেকেও বহু মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই ফিল্ম দেখেছেন । কিন্তু আরও বহু মানুষের এই দৃশ্য বিবরণী দিয়ে নতুন করে পথের পাঁচালী দেখা বাকি । তাই তাঁদের কথা চিন্তা করে খুব শীঘ্রই এই ফিল্মের অডিয়ো বিবরণী সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে ।
আর্য জানান, “বহু দৃষ্টিহীন মানুষই এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছতে পারেননি । তাই তাঁদের কথা চিন্তা করে শীঘ্রই আমরা এই সিনেমাটি সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ করব । সেই নিয়ে আমার সঙ্গে স্যারের কথা চলছে । এর ফলে সমাজের আরও অনেক মানুষ এই সিনেমাটি দেখতে পাবেন ।” তবে এর সঙ্গে তাঁর আর্জি, “শুধুমাত্র এই একটামাত্র সিনেমা নয়, প্রতিটি সিনেমার এই ভাবে দৃশ্য বিবরণী তুলে ধরার কথা ভাবা হোক ।”
আরও পড়ুন:- ট্যান পড়ে ত্বক কালো হয়েছে? কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মুখ উজ্জ্বল হবে জানুন