Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- বাড়ি শক্তপোক্ত করতে আমরা অনেক কিছুই করি। সিমেন্ট, বালি থেকে শুরু করে ইট। সবই এক নম্বর হওয়া দরকার। তবে, এবার একটি নতুন দাবি করেছেন। আইআইটি ইন্দোরের গবেষকরা দাবি করেছেন যে খাদ্যের বর্জ্য মেশালে তা কংক্রিটের শক্তি বাড়াতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, খাদ্য় বর্জ্যের সঙ্গে একটি অ-প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার মেশালে কংক্রিটের নির্মাণের শক্তি দ্বিগুণ হতে পারে এবং কার্বন নিঃসরণ কমতে পারে। খাদ্য বর্জ্য পচে গেলে তা কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করে। যদি কংক্রিটে ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্য বর্জ্য মিশ্রিত হয়, তাহলে কার্বন ডাই অক্সাইড কংক্রিটে উপস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট স্ফটিক তৈরি করে,
গবেষণা দলের একজন অধ্যাপক সন্দীপ চৌধুরী বুধবার পিটিআইকে জানিয়েছেন, এই স্ফটিকগুলি কংক্রিটে উপস্থিত ছিদ্র এবং ফাটলগুলি পূরণ করে এবং ওজন না বাড়িতেই কংক্রিটকে শক্ত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘আমরা পচা ফল এবং তাদের খোসার মতো খাদ্য বর্জ্যের মধ্যে নন-প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া (ই. কোলাই) মিশিয়ে কংক্রিটে ঢেলেছিলাম। এতে কংক্রিটের শক্তি দ্বিগুণ হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াটির বিশেষত্ব হল এটি গর্ত এবং ফাটল ভরাট করার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়, যার কারণে পরবর্তীতে নির্মাণের কোনও ক্ষতি হয় না। আমাদের গবেষণায় আমরা ঘরোয়া ফেলে দেওয়া খাবার (ফুলকপির ডাঁটা, আলুর খোসা, মেথি শাক এবং কমলার খোসা) এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া ফলের বর্জ্য (পচা পেঁপের পাল্প) ব্যবহার করেছি।’
আরও পড়ুন:- পঞ্চায়েত প্রধান বাংলাদেশি নাগরিক, জানুন কোন জালিয়াতি সামনে এলো
কীভাবে ব্যবহার
প্রথমে কম আর্দ্র বর্জ্যকে পাউডার করা হয়, তারপর তরল তৈরি করার জন্য জলের সঙ্গে মেশানো হয়। যখন বেশি আর্দ্রতাযুক্ত বর্জ্যকে পাল্প হিসেবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। আইআইটি ইন্দোরের বায়োসায়েন্সেস এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হেমচন্দ্র ঝা বলেন, আগে কংক্রিটে সিন্থেটিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে ভাল ফল মেলেনি। আইআইটি ইন্দোরে গবেষণায়, এই প্রক্রিয়ার খরচ কমাতে সিন্থেটিক রাসায়নিকের পরিবর্তে খাদ্য বর্জ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। খাদ্য বর্জ্য ব্যাকটেরিয়া সহ জলে দ্রবীভূত হয় এবং সহজেই কংক্রিটে মিশে যায়।