Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- তিন বছর পর সিকিমের পরিবহণ দফতরের সঙ্গে পারস্পারিক মউ স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বাংলার । এই মউয়ের মাধ্যমে দুই রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি যান চলাচলে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে দুই রাজ্যের সরকার । বুধবার শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউজে পারস্পারিক মউয়ের বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয় ।
এখন থেকে বাংলার চালকরা যাত্রী নিয়ে সরাসরি গ্যাংটকের হোটেলে যাত্রীদের নামাতে পারবে । তবে তারপর বেড়ানোর জন্য সিকিমের গাড়ি ভাড়া করতে হবে । পাশাপাশি একই নিয়ম লাগু করা হয়ে সিকিমের চালকদের ক্ষেত্রেও । সিকিমের চালকরা যাত্রী নিয়ে শিলিগুড়িতে সরাসরি হোটেলে নামাতে পারবে । কিন্তু তারপর ঘুরতে বাংলার গাড়ি ভাড়া করতে হবে ।
আরও পড়ুন:- বিরাট সুখবর! রাজ্যে ৮২৫৬ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা। আবেদন চলছে অনলাইনে
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর, সিকিমের পরিবহণ উপদেষ্টা মদন সেন্টুরি, পরিবহণ কমিশনার রাজ যাদব-সহ দুই রাজ্যের পরিবহণ সচিব, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা ।
এদিন পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “শিলিগুড়ির যানজট সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে । যানজট কীভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে । সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে । পুলিশকেও পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি এদিন সিকিম সরকারে সঙ্গে মউ নিয়ে আলোচনা হয়েছে । বেশ কিছু সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি কিছু নতুন উদ্যোগ আমরা নেব । তবে এই খসড়া আগে সরকারের কাছে যাবে । সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মউ সাক্ষর হবে ।”
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই রাজ্যের গাড়ি চালকদের যাতে অন্য রাজ্যে পর্যটক বা যাত্রী নিয়ে গেলে কোনওরকম হেনস্থা বা অসুবিধার সম্মুখীন না হতে হয় সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে । আগে পশ্চিমবঙ্গের গাড়ি সিকিমে গেলে গ্যাংটকে যাত্রী নামিয়ে দিতে বাধ্য করা হত । অথচ সিকিমের গাড়ি বাংলায় যাত্রী নিয়ে যে কোনও জায়গায় চলাচল করতে পারছে । আর এই অসুবিধার কারণে বাংলার চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে পরিবহণ দফতর ।
অন্যদিকে, আগে দুই রাজ্যের মধ্যে তিন হাজার করে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল করত। পর্যটক ও যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সংখ্যা দুই রাজ্যের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে সাড়ে চার হাজার করা হয়েছে । এছাড়াও আগামীতে দুই রাজ্যের মধ্যেই 10টি করে ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । তার জন্য দুই রাজ্যই পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দেবে ।
এছাড়াও এদিন বৈঠকের আগে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাল্লাগুড়িতে এনবিএসটিসির একটি জমি পরিদর্শনে যান পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী । আগামীতে ওই জায়গায় বাস টার্মিনাস করা যায় কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি ।
সিকিমের পরিবহণ দফতরের উপদেষ্টা মদন সেন্টুরি বলেন, “আগে যেসব সমস্যা ছিল সেগুলো আজকের বৈঠকে সমাধান হয়ে গিয়েছে । দুই রাজ্যের চালকরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে সেদিকে জোর দেওয়া হবে । পাশাপাশি গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ।”