Bangla News Dunia, Pallab : ভোটারদের জন্য বিপদ! কমিশনের চাওয়া এই ১১টি নথি আপনার কাছে আছে তো? গত কয়েকদিন ধরে বিহারে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রবল আলোড়ন পড়ে গেছে। ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে হঠাৎ করে লক্ষ লক্ষ নাম মুছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন : ‘ভোটার তালিকা থেকে যেন কারও নাম বাদ না যায়’, বিএলও’দের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
বহু মানুষ জানতে পারছেন, তাঁরা আর ভোটারই নন! অথচ বছরের পর বছর ধরে তাঁরা ভোট দিয়ে এসেছেন।
এই ঘটনার রেশ এখন পশ্চিমবঙ্গেও টের পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্র বলছে, বাংলাতেও এই বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে অগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে।
কেন শুরু হল এই ঝামেলা?
২০২৪ সালের জুন মাসে বিহারে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ নাগরিকদের নাম রাখা হবে। তার জন্য নথি চাওয়া হচ্ছে।
কিন্তু সমস্যাটা ঠিক এখানেই। যে ১১টি নথি নির্বাচন কমিশন চেয়েছে, তার মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে যেগুলো সহজে থাকে— যেমন আধার কার্ড, রেশন কার্ড, বা প্যান কার্ড— সেগুলোর একটাকেও মানা হচ্ছে না।
বরং চাইছে এমন কিছু কাগজপত্র যা বহু মানুষের কাছেই নেই।
চাওয়া কাগজপত্রের লিস্ট (Special Intensive Revision Documents Required) :
1) সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনপ্রাপক পরিচয়পত্র
– কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকার বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী হলে দেওয়া ID, অথবা পেনশন পেমেন্ট অর্ডার।
2) সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা জারি করা পরিচয়পত্র
– ব্যাঙ্ক, ডাকঘর, এলআইসি, বা অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কর্তৃক ১ জুলাই ১৯৮৭-এর পরে জারি নথি।
3) জন্মের শংসাপত্র
– স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করা জন্ম নিবন্ধনের কাগজ।
4) পাসপোর্ট
– বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট।
5) শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র
– স্বীকৃত বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ম্যাট্রিকুলেশন বা অন্যান্য শিক্ষাগত সার্টিফিকেট।
6) স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র
– রাজ্য সরকারের কর্তৃপক্ষ দ্বারা জারি করা স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র।
7) বন অধিকারের শংসাপত্র
– বনভূমি বা অরণ্য অধিকারের সরকারি স্বীকৃত নথি।
8) জাতিগত শংসাপত্র
– তপশিলি জাতি/উপজাতি, ওবিসি বা অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র।
9) জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC)-এর অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নথি
– যদি প্রযোজ্য হয়, নাগরিকত্ব রেজিস্টারে নাম থাকলে তার প্রমাণ।
10) পারিবারিক রেজিস্টার
– স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা গ্রাম পঞ্চায়েত দ্বারা প্রস্তুত পারিবারিক রেজিস্টার কপি।
11) জমি বা বাড়ির সরকারি বরাদ্দ সংক্রান্ত নথি
– সরকারি প্রকল্প বা দপ্তর থেকে জমি বা ঘরের বরাদ্দের সার্টিফিকেট।
কে বাদ, কে থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন
কমিশনের দাবি, এর মাধ্যমে মৃত ভোটার, অন্যত্র চলে যাওয়া লোকজন বা অবৈধ নাম সরানো যাবে। কিন্তু বিরোধীদের মতে, এটা করে আসলে গরিব, সংখ্যালঘু, দলিত, ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কারণ এসব শ্রেণির মানুষের অনেকের কাছেই সরকারি কাগজ থাকে না।
আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা সংশোধন, দেখে নিন সকলের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন-উত্তর














