WB Aikyashree Schoolship 2026: আরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য পড়াশোনা করতে চাও, তবে আর্থিক অভাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? তাহলে এই খবরটি তোমার জন্যই যথাযথ।
তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ স্কলারশিপ দিয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে — যার নাম ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত — সব স্তরের পড়ুয়ারাই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করে সুবিধা নিতে পারবেন। আর টাকার পরিমাণও কম নয় — বছরে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো, অনেকেই জানেন না কীভাবে আবেদন করতে হয়, কী কী কাগজ লাগে, কী যোগ্যতা লাগে — আর ঠিক এই অজানার কারণেই অনেক প্রাপ্য ছাত্রছাত্রী এই সুযোগ হারিয়ে ফেলছেন। তাই শেষ পর্যন্ত পড়বেন আরও বিস্তারিত জানতে।
আর চিন্তা নেই আজকের এই প্রতিবেদনে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ ২০২৬ সম্পর্কিত প্রতিটি তথ্য সহজ ভাষায় বিস্তারিত বলা হলো।

চলুন দেখেনি ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ ২০২৬
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| স্কলারশিপের নাম | ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ |
| প্রদানকারী সংস্থা | পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগম (WBMDFC) বিভাগ |
| আবেদনকারীর যোগ্যতা | প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত দেওয়া হয় |
| বার্ষিক সুবিধা | ১,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারো |
| আবেদন পদ্ধতি | সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | wbmdfcscholarship.in |
| হেল্পলাইন নম্বর | 1800-120-2130 (টোল ফ্রি) |
ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ কী? কেন এটি এত গুরুত্ব রয়েছে?
রাজ্যে এমন বহু পরিবার আছে যেখানে সন্তান মেধাবী, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই, কিন্তু পারিবারিক আয় এতটাই কম যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক সময় মাঝপথেই থেমে যেতে হয়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারেই এই চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ সেই বাধাটাকে কিছুটা হলেও সরিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগম বা WBMDFC এই স্কলারশিপ পরিচালনা করে। উদ্দেশ্য একটাই — যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা যেন শুধু টাকার অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে চলে না যায়।
ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ কত প্রকার?
আমরা সকলেই জানি, সবার পড়াশোনার স্তর তো এক নয়। কেউ স্কুলে পড়ছে, কেউ কলেজে, কেউ আবার ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেলে পড়াশোনারত। সেটা মাথায় রেখেই এই স্কলারশিপকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
| বিভাগ | এক্ষেত্রে কারা আবেদন করতে পারবেন |
|---|---|
| প্রি-ম্যাট্রিক (Pre-Matric) | প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী সকলে |
| পোস্ট-ম্যাট্রিক (Post-Matric) | একাদশ শ্রেণি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত পড়লেই |
| মেরিট কাম মিনস (Merit-cum-Means) | ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, আইন বা ম্যানেজমেন্টে পড়ুয়া শিক্ষার্থী |
বড় কথা হলো, যদি কোনো শিক্ষার্থী শেষ পরীক্ষায় ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে থাকেন, তাহলে এই একই পোর্টাল থেকে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস (SVMCM) স্কলারশিপের জন্যও আবেদন করা যাবে।
কারা এই স্কলারশিপে যোগ্য প্রার্থী? যোগ্যতার শর্তগুলো জেনে নিন
অনেকের মনে এটাই প্রশ্ন থাকে — “আমি কি এই স্কলারশিপ পেতে পারি?” উত্তর পেতে নিচের শর্তগুলো মিলিয়ে দেখুন।
এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।এর পাশাপাশি মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন বা পার্সি — এই ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত থাকলে আবেদন করতে পারবেন।
শেষ পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
পারিবারিক আয়ের সীমার বিষয়ে জানিয়ে রাখি —
| স্কলারশিপের ধরন | পারিবারিক বার্ষিক আয়ের সীমা |
|---|---|
| প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক | ২ লক্ষ টাকার নিচে থাকতে হবে |
| মেরিট কাম মিনস | ২.৫ লক্ষ টাকার নিচে হতে হবে |
কত টাকা পাওয়া যাবে? বিস্তারিত হিসেব
তবে এবার আসা যাক সবচেয়ে কৌতূহলের প্রশ্নে — টাকার পরিমাণ ঠিক কত?
| পড়াশোনার স্তর | বার্ষিক স্কলারশিপের পরিমাণ কত |
|---|---|
| স্কুল পর্যায় (প্রথম–দশম শ্রেণি) | ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত |
| কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় | ৫,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত |
| প্রফেশনাল কোর্স (B.Tech / MBBS / MBA) | ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা |
অর্থাৎ যদি কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেলে পড়েন, তাহলে বছরে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নিঃসন্দেহে পড়াশোনার খরচের একটা বড় অংশ সামলে দিবে।
আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
আবেদন করার আগেই এই কাগজগুলো প্রস্তুত রাখলে পরে ঝামেলা কম হবে।
| ক্রমিক | প্রয়োজনীয় নথি সমূহ |
|---|---|
| ১ | শেষ পরীক্ষার মার্কশিট থাকতে হবে |
| ২ | পরিবারের আয়ের শংসাপত্র থাকা |
| ৩ | আবেদনকারীর নিজের ব্যাঙ্কের পাসবুক বা চেকবই |
| ৪ | আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড |
| ৫ | বর্তমান কোর্সে ভর্তির রসিদ |
| ৬ | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বোনাফাইড সার্টিফিকেট |
তবে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — আধার কার্ডটি অবশ্যই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকতে হবে। না হলে স্কলারশিপের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসবে না।
ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি — একদম সহজ ভাষায়
যদিও অনলাইনে আবেদন করাটা অনেকের কাছে জটিল মনে হয়। কিন্তু আসলে প্রক্রিয়াটা বেশ সহজ হয়ে থাকে। নিচের ধাপগুলো একে একে অনুসরণ করলেই হবে।
ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইট wbmdfcscholarship.in খুলতে হবে।
ধাপ ২: সেখানে “Student’s Area” বিভাগে যান এবং “Student Registration” অপশনে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ৩: এরপর নিজের জেলা বেছে নিতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য এবং পড়ার প্রতিষ্ঠানের নাম দিতে হবে।
ধাপ ৪: সঠিক স্কলারশিপ বিভাগ — প্রি-ম্যাট্রিক, পোস্ট-ম্যাট্রিক বা মেরিট কাম মিনস — বেছে নিয়ে একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
ধাপ ৫: ফাইনাল সাবমিট সম্পন্ন হলে একটি Application ID পাবেন। সেই আইডি দিয়ে লগইন করে পুরো আবেদনপত্র নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
ধাপ ৭: সব তথ্য একবার ভালো করে মিলিয়ে দেখুন। তারপর “Final Submit” বোতামে ক্লিক করতে হবে এবং ফর্মটির একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে স্কুল বা কলেজে জমা দিতে হবে ল।
বিশেষ সতর্কতা: Final Submit করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালো করে যাচাই করে নিবেন। একবার সাবমিট হয়ে গেলে নিজে থেকে সংশোধন করা যাবে না — তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা কখন?
বড় কথা হলো ঐক্যশ্রী স্কলারশিপের আবেদন পোর্টাল সারা বছর খোলা থাকে না। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে পোর্টাল খোলা হয়ে থাকে এবং খুব সীমিত সময়ের জন্য আবেদন নেওয়া হয়।
তবে এক্ষেত্রে যারা আবেদন করতে চাও, তাদের পরামর্শ হলো — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbmdfcscholarship.in নিয়মিত চেক করতে থাকো। কারণ পোর্টাল কখন খুলবে সেটা আগে থেকে জানা না থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর যা অনেকেই জানতে চান
প্রশ্ন: ঐক্যশ্রী এবং স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ — দুটো একসঙ্গে পাওয়া যাবে?
না, একসঙ্গে দুটোই পাওয়া যাবে না। জানামতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেধাবী শিক্ষার্থী যদি ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে থাকেন, তাহলে ঐক্যশ্রী পোর্টাল থেকেই SVMCM বিভাগে আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: ফর্মে ভুল হয়ে গেলে কী করব?
ফাইনাল সাবমিটের আগে ভুল ধরলে নিজেই সংশোধন করতে পারবেন। কিন্তু একবার সাবমিট হয়ে গেলে স্কুল বা কলেজকে জানাতে হবে। তারা আবেদনটি “Unlock” করে দিলে তারপর সংশোধন করা সম্ভব হবে।।
প্রশ্ন: টাকা আসতে কতদিন সময় লাগে?
তবে আবেদন জমা দেওয়ার পর জেলা ও রাজ্য স্তরে যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে।
প্রশ্ন: বেসরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, পারবেন। তবে শর্ত হলো কলেজটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা উচ্চশিক্ষা পর্ষদ দ্বারা স্বীকৃত হওয়া চাই ।
হেল্পলাইন — সমস্যায় পড়লে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
| যোগাযোগের মাধ্যম | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টোল-ফ্রি নম্বর | 1800-120-2130 |
| হোয়াটসঅ্যাপ সাপোর্ট | 8017076011 |
| ইমেল | info.wbmdfc@itwin.com |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | wbmdfcscholarship.in |
শেষ কথা — সুযোগ একবারই আসে, হারিও না
রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পড়াশোনার ইচ্ছে থাকলে টাকার অভাব যেন বাধা না হয় — ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ ঠিক সেই কথাটাই বলছে। সরকারের এই উদ্যোগ অনেক পরিবারের জন্য সত্যিই একটা বড় সাহায্য।
তাই যদি তুমি বা তোমার পরিচিত কেউ এই স্কলারশিপের যোগ্য হয়ে থাকে— আর দেরি না করে আজই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখো পোর্টাল খোলা আছে কিনা দেখে নিবেন। আর এই লেখাটা তোমার বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করে দাও — কারণ সঠিক তথ্যটা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোটাই সবচেয়ে বড় কাজ।
দ্রষ্টব্য:আজকর এই নিবন্ধটি সম্পূর্ণ তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিবেন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbmdfcscholarship.in দেখতে পরেন।














