Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট বিস্ফোরণ কাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষকে বাঁচাতে সচেতন হতে হবে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে লাইসেন্স ছিল। কিন্তু গুজরাতের বাজি কারখানার বিস্ফোরণের ঘটনায় লাইসেন্স ছিল না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়া বলেন, নিজের বাড়িতে গ্যাস সামলে রাখুন। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়। ইনসিওরেন্স পেতে এই সময়ে এমন ঘটনা আগেও হয়েছে। বাজি ও গ্যাস সিলিন্ডার যেখানে থাকে সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকেও সচেতন হতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়িতে বাজি রাখার কী প্রয়োজন?
আরও পড়ুন:- মুসলিমদের সব জমি সরকার নিয়ে নেবে? ওয়াকফ সংশোধনী বিল সম্পর্কে জানুন
প্রসঙ্গত, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার বণিক পরিবারের আট সদস্যের। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দু’জন সদ্যজাত-সহ চার শিশুও। ঢোলাহাটের ঘটনাই রাজ্যে প্রথম নয়, বেআইনি বাজি বিস্ফোরণে বাংলার তালিকাটা দীর্ঘ। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে ঘটনার গোটা দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরই চাপান শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিরোধী দলনেতা লেখেন, “২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কল্যাণীতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই ফের আরও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা। ভূপতিনগর, এগরা, বজবজ, কল্যাণী… তালিকাটা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। রাজ্যের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও কত দুর্ঘটনা ঘটবে? আগামী কালই সম্ভবত নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হবে। মানুষ আজকের এই ঘটনাটি ভুলে যাবে যতক্ষণ না পরবর্তী দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলায় কেন বারে বারে এই একই ধরণের ঘটনা ঘটছে তার কোনও জবাব নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে। বারে বারে একই ঘটনার জন্য ‘অদক্ষ পুলিশ মন্ত্রী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী।”
উল্লেখ্য, পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট বিস্ফোরণ কাণ্ডে বাড়ির বড় ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ আগেই বাজি ব্যবসায়ী পরিবারের দুই সদস্য চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তাঁর ভাই তুষারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল ঢোলাহাট থানার পুলিশ। ঘরে বিপজ্জনক বস্তু মজুত রাখা, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। দমকল আইনেও মামলা রুজু হয়েছিল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, ব্যবসার বেশির ভাগটাই বণিক বাড়ির বড় ছেলে চন্দ্রকান্ত দেখা শোনা করত, তুষার তাঁকে সাহায্য করত৷ এদিন নবান্নে জমা দেওয়া রিপোর্টে জেলাশাসকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই পরিবারের বাজি কারখানা চালানোর কোনও লাইসেন্স ছিল না৷