উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ফ্ল্যাট বাড়িতে কি মানুষের চিতাভস্ম (Cremated Ashes) রাখা যায়? উত্তরটা এতদিন ‘হ্যাঁ’ থাকলেও, এবার তাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল চীন (China) প্রশাসন। আকাশছোঁয়া সমাধিস্থলের দাম এড়াতে অনেক চীনা পরিবার আবাসিক ফ্ল্যাট কিনে সেখানে প্রিয়জনের চিতাভস্ম রাখার প্রবণতা শুরু করেছিল। কিন্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ‘মৃতের আবাসন’ নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধায় গত ৩০ মার্চ থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বেজিং।
চীনে ঐতিহ্যগতভাবে মৃতদেহের সৎকার এবং সম্মানজনক সমাধি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য বলে মনে করা হয়। কিন্তু নগরায়ন এবং ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার চাপে দেশটিতে সমাধিস্থলের আকাল দেখা দিয়েছে। SCMP-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী:
- সাংহাইয়ের আকাশছোঁয়া দাম: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাংহাইয়ে বাণিজ্যিক সমাধিস্থলের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৪টি, যার অধিকাংশ এখন পূর্ণ।
- আবাসনের চেয়ে দামি সমাধি: ২০২৩ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাংহাইয়ের সোংহে সিমেট্রিতে এক বর্গমিটার জমির দাম ছিল প্রায় ৭,৬০,০০০ ইউয়ান। অথচ ওই শহরে থাকার জন্য সাধারণ ফ্ল্যাটের গড় দাম বর্গমিটার প্রতি মাত্র ৫৫,০০০ ইউয়ান।
চীনে একটি সমাধিস্থল কিনলে তার ব্যবহারের অধিকার পাওয়া যায় মাত্র ২০ বছরের জন্য। অন্যদিকে, একটি আবাসিক ফ্ল্যাট কিনলে তার মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার থাকে ৭০ বছর পর্যন্ত। এই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং ভবিষ্যতে ফ্ল্যাটটি বিক্রির সুযোগ থাকায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সিমেট্রি ছেড়ে ফ্ল্যাট কেনাকেই শ্রেয় মনে করছিলেন।
তিয়ানজিন অঞ্চলের ঝংতাং টাউনে (Zhongtang Town) একটি বড় আবাসন প্রকল্পের একাধিক ভবনকে হাজার হাজার চিতাভস্মের পাত্র (Urns) রাখার জন্য বদলে ফেলা হয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষ এটিকে নিয়মবিরুদ্ধ ঘোষণা করে এবং পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়।
সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, চিংমিং উৎসবের (Qingming Festival) মতো দিনগুলোতে ফ্ল্যাটের ভেতরে ধূপ জ্বালানো বা পারলৌকিক ক্রিয়া পালন করার ফলে প্রতিবেশীদের সমস্যায় পড়তে হয়। মৃতদের ছায়ার মধ্যে বসবাস করা নিয়ে অনেকের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তিও কাজ করছিল।
৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত শেষকৃত্য বিধিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, কোনো আবাসিক সম্পত্তি চিতাভস্ম সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের পর চীনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, সরকার যদি সিমেট্রির দাম না কমায়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যের খাতিরে এবং আবাসন এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর আইনকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকেই।














