Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- বর্তমান সময়ে যে হারে বায়ু দূষণ হচ্ছে তা যেন পৃথিবীতে এক ভয়ংকর রূপ দেখা দিয়েছে। যথেচ্ছ হারে গাছ কেটে ফেলা এবং তার সাথে যে হারে যানবাহনের ব্যবহারের প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, এর ফল স্বরূপ কালো ধোয়ায় ধূসরিত এই বসুন্ধরা। এই বায়ু দূষণের ফলে শুধুমাত্র পরিবেশ তার ভার সাম্য হারিয়ে ফেলেছে নয়, এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীরে।
বায়ু দূষণের কারণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের জীবনে
বায়ুদূষণের মাধ্যমে এমন এমন ক্ষতিকারক রোগ মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বাসা বাধছে, যার ফল স্বরূপ মানব স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনকি মানুষের নিঃশ্বাসের সাথে এই বায়ু দূষণকারী পদার্থ মিশে গিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আজকের এই প্রতিবেদনে মানব স্বাস্থ্যের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করব। বায়ু দূষণের প্রভাব মানুষের শরীরে কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তার নমুনা দেওয়া হলো নিম্নে।
Air Pollution Effects on Entire World
উচ্চ রক্তচাপের উচ্চ ঝুঁকি :- দূষণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) জনিত অসুখ ধরা দিতে পারে। বায়ু দূষণের ফলে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে উচ্চ মাত্রার দূষণের সংস্পর্শে থাকা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও হতে পারে। দূষিত বায়ু শ্বাস নেওয়ার ফলে লিভার, কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্র এবং কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
কার্ডিওভাসকুলার এবং হার্টের সমস্যা :- বর্তমানে হার্টের সমস্যা জনিত অসুখ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর একটি প্রধান কারণ হলো এই বায়ুদূষণ। যদি কোন ব্যক্তির শরীরে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রায়ই দূষিত পদার্থ গুলো দেহের গভীর প্রবেশ করতে থাকে এবং রক্তের সাথে মিশে যায় তবে এই সমস্ত অঙ্গ গুলিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে রক্ত উৎপাদন কম হতে পারে। সিসা বা কার্বন মনোক্সাইড বিষ ক্রিয়া মানুষের পেশিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে এই বায়ু দূষণ।
আরও পড়ুন:- SSC মামলায় নতুন নিয়োগ কবে থেকে শুরু? এবারে কারা যোগ্য? বিস্তারিত জেনে নিন
স্নায়বিক এবং জন্মগত সমস্যা :- অনেক সময় দেখা যায় কোন শিশু স্নায়বিক রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এর একটি প্রধান কারণ হলো গর্ভাবস্থায় বায়ু দূষণের সংস্পর্শে থাকা মহিলাদের রক্তে বিষাক্ত রাসায়নিকের মাত্রা বেড়ে যায়। এর রাসায়নিক যখন ভ্রূণে এসে পৌঁছায়, তখন গর্ভস্থ শিশুর জন্ম থেকে ওজন কম থাকতে পারে। স্নায়ুজনিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই জন্ম গ্রহণ করতে পারে। এই স্নায়বিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে শেখার ঘাটতি, নিম্ন আইকিউ। এছাড়া দূষিত বায়ু অ্যালঝাইমারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
ত্বকের ক্ষতি :- দূষিত বায়ুর মধ্যে সমস্ত ক্ষতিকারক রাসায়নিক রয়েছে সেই গুলি ত্বকের ওপর সরাসরি প্রভাব আনে। ত্বকের জ্বালা ভাব, প্রদাহ ও ত্বকের মধ্যে কম বয়সেই বার্ধক্য জনিত ভাব এনে ফেলতে পারে এই ক্ষতিকারক দূষিত পদার্থ। আর এই সমস্যা একবার হয়ে গেলে কোন ভাবেই আর মুক্তি পাওয়া ওতটাও সোজা হয় না সকলের পক্ষে।
অ্যাজমা ও সিওপিডি:- বাতাসের দূষিত কণা এর মাধ্যমে মানুষের ফুসফুসের অনুনাসিক গহ্বরের টিস্যু গুলিকে আক্রান্ত করে, তখন কাশি এবং সর্দি নামক বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে পারে। যদি সূক্ষ্ম কণা গুলি আপনার ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে, তবে এটি ফুসফুসের সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এর ফলে শ্বাস কষ্ট হতে পারে। এর মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস জনিত রোগ পালমনারি রোগ (সিওপিডি) এবং হাপানি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বায়ু দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে বাচানোর জন্য আমাদেরকে দরকার আরো বেশি করে বৃক্ষরোপণ করা। এর সাথে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত, যার মাধ্যমে বাইরের ধূল কণা আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর প্রবেশ করতে বাধা দেবে। যদি আপনার শরীরে বায়ু দূষণ জনিত বিভিন্ন রোগের উপসর্গ যেমন কাশি, শ্বাস কষ্ট লক্ষ্য করেন তাহলে বেশি দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান।
বায়ু দূষণের প্রভাবকে কখনোই হালকা হবে দেখা উচিত নয়, কারণ বায়ু দূষণের মাধ্যমে ফুসফুস বা এমন ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হতে পারে, যার ফল এক জন মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই এখন সময় আছে সকলে কাছে যে কিছুটা হলেও প্রকৃতির খেয়াল রাখার মাধ্যমে নিজেদের ও আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু বাঁচিয়ে রাখা এবং বাচ্চা ও বয়স্কদের এই সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই সম্পর্কে আপনাদের মতামত নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।
আরও পড়ুন:- ভেজাল-বিষাক্ত পনিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার, কিভাবে ভেজাল পনির চিনবেন জেনে নিন