Bangla News Dunia, সারদা দে :- আমাদের দেশে বেল পেপার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অবশ্যই, এই নামটি অনেকেই চিনবেন না। কিন্তু এটাকে ক্যাপসিকাম নামে সবাই চেনে । এটিকে বেল পেপার বা সবুজ মরিচ বলা হলেও একটি আসলে একটি জনপ্রিয় সবজি। মাছ, মাংস, সবজি, সালাদ—সবকিছুতেই এর ব্যবহার আছে। সবুজ, লাল, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম এখন কাঁচাবাজার ও সুপারশপে পাওয়া যাচ্ছে। আপনি চাইলে অল্প পরিশ্রমে খুব সহজেই বারান্দা বা ছাদের টবে বেল পেপার বা ক্যাপসিকাম চাষ করতে পারেন।
আরো পড়ুন : – জেনে নিন কোন প্রজাতির সুপারি চাষ লাভজনক
চাষ পদ্ধতি:
দোআঁশ বা বেলে মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযোগী। সব মৌসুমেই ক্যাপসিকাম চাষ করা সম্ভব হলেও ভাদ্র ও মাঘ মাসে বীজ বপন করা ভালো। এই সময় বীজ বপন করলে উন্নত ফসল ফলানোর সম্ভাবনা বেশি। এই সবজি চাষ করার জন্য বীজ বা চারা সংগ্রহ করুন এবং অতিরিক্ত নিষ্কাশনের সুবিধার্থে নিচে ছিদ্রযুক্ত একটি টব নির্বাচন করুন। এক-তৃতীয়াংশ জৈব সার টবের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। আনুমানিক এক মাস বয়সী চারা রোপণের জন্য উপযোগী বলে ধরা হয় । আলো, বাতাস এবং তীব্র তাপহীন সূর্য ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপকারী। কারণ প্রখর রোদে চারা নষ্ট হয়ে যায়। তাই কম তাপমাত্রায় চারা রোপণ করতে হবে। রোপণের কমপক্ষে 20 দিন পর এক চা চামচ ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে নিয়মিত জল দিতে হবে যাতে মাটি শুকিয়ে না যায়।
চারা একটু বড় হলে শক্ত খুঁটি দিতে হবে যেন নিচে না পড়ে। এছাড়া গাছের গোড়ায় আগাছা থাকলে সেগুলো সাবধানে তুলে ফেলতে হবে। চারা রোপণের প্রায় দুই মাস পর অর্থাৎ তিন মাস পরই চারা থেকে ফল ধরতে শুরু করে, যা পরবর্তী এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত ফল ধরে।
আরো পড়ুন : – চাষে লাভ পেতে জোর দিন মিশ্র কৃষিতে ! দেখুন কিভাবে করবেন ?
রোগ প্রতিরোধ
ক্যাপসিকামের পাতায় যাতে আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ক্যাপসিকামে সাধারণত দুই ধরনের রোগ দেখা যায়। একটি হল পাতা কুঁচকে যাওয়া এবং অন্যটি হল পাতায় কালো দাগ। জাব পোকা দলে দলে পাতার রস চুষে খায়, ফলে পাতা কুঁচকে যায়। এটি প্রতিরোধ করতে নিমের বীজের দ্রবণ বা সাবান-জল স্প্রে করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ লিটার জলে দুই চা চামচ গুঁড়ো সাবান মেশাতে হবে।
যাদের বাগান করার শখ আছে বা আগে থেকেই বাগান করছেন তারা বাড়িতেই ক্যাপসিকাম চাষ করতে পারেন। এই সবজি সেই সঙ্গে বাগানের পরিবেশ যেমন বদলে দেবে ,সাথে তাজা ক্যাপসিকামও খাওয়া হবে স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী