কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। এই রায়ে দাগী বা টেন্টেড প্রার্থীদের বাতিল সহ বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন : ম্যায় হুঁ না ! শুভেন্দু-সুকান্তকে বিশেষ বার্তা দিলীপের
হাইকোর্টের রায়ের মূল বিষয়বস্তু:
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ চারটি আপিল মামলা খারিজ করে দিয়েছে, যা SSC-এর ২০২৫ সালের নিয়োগ নিয়মের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। এর ফলে, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং রাজ্য সরকার একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে মূলত জয়ী হয়েছে। তবে, “দাগী” প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বহাল রাখা হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
SSC চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়মাবলী:
- “দাগী” প্রার্থীদের বর্জন: একক বেঞ্চের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বা যারা “দাগী” হিসাবে চিহ্নিত, তাদের নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
- বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় নয়: ২০১৬ সালের বাতিল হওয়া পরীক্ষার অনেক প্রার্থী বয়সের ঊর্ধ্বসীমা (৪০ বছর) অতিক্রম করে যাওয়ায় ছাড়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যেহেতু ২০১৬ সালের পরীক্ষা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে, তাই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং বয়সের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
- স্নাতক স্তরে নম্বরের নতুন শর্ত: SSC-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় বসার জন্য স্নাতক স্তরে ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। আগে এই শর্তটি ৪৫% ছিল, কিন্তু হাইকোর্ট SSC-এর নতুন নিয়মকেই মান্যতা দিয়েছে।
- শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় অতিরিক্ত গুরুত্ব: ডিভিশন বেঞ্চ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য ১০% ওয়েটেজ দেওয়ার নিয়মটি বহাল রেখেছে। এই নিয়মের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয়েছিল কারণ এটি কিছু প্রার্থীকে অন্যায্য সুবিধা দিতে পারে, বিশেষ করে যারা ২০১৬ সালের পরীক্ষায় চাকরি হারিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত এই নিয়মটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন মনে করেনি।












