ভারতীয় সেনার নতুন দুই বাহিনী ‘রুদ্র’ ও ‘ভৈরব’, কী কাজ করবে এই বাহিনী? জানুন

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত দুই নয়া আর্মস ব্রিগেড ‘রুদ্র’ ও ‘ভৈরব’। কার্গিল বিজয় দিবসের দিন ঘোষণা করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ‘ভৈরব’ হল লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন। এদের বিশেষত্ব দ্রুত এবং মারাত্মক আক্রমণ শানাতে সক্ষম। রুদ্র হল আর্মস ব্রিগেড। এর মধ্যে থাকবে ইনফেট্রি, আর্টিলারি ইউনিট ও বিশেষ বাহিনী। এই দুই ব্রিগেডের কী বিশেষত্ব? কী কী থাকবে? এতে কতটা শক্তিশালী হবে ভারতীয় সেনা? জানুন।

রুদ্র ব্রিগেড: নতুন যুদ্ধ বাহিনী
রুদ্র ব্রিগেডে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ বাহিনীকে একত্রিত করা হয়েছে। এদের সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই করবে।

ইনফেট্রি: পদাতিক বাহিনী, যারা স্থল যুদ্ধে লড়বে।
যান্ত্রিক ইনফেট্রি: সাঁজোয়া যানে সজ্জিত সেনা।
আর্মড ইউনিট: ট্যাঙ্ক এবং ভারী অস্ত্র।
কামান বা আর্টিলারি: কামান, যা দূর থেকে আক্রমণ করে।
বিশেষ বাহিনী: নির্দিষ্ট মিশনের জন্য প্রশিক্ষিত জওয়ান।
UAV (ড্রোন): পর্যবেক্ষণ এবং আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত মানবহীন আকাশযান।

বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? 
এই ব্রিগেডগুলি বিশেষভাবে ডিজাইন করা লজিস্টিক সাপোর্ট (পণ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ) এবং যুদ্ধ সহায়তার জন্য। প্রতিটি ইনফেট্রি ব্যাটালিয়নে ড্রোন প্লাটুন থাকবে, যারা শত্রুদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে।

আরও পড়ুন:- বর্ষায় ছাদ, দেওয়াল ড্যাম্প হওয়া থেকে আটকাবেন কীভাবে? জেনে নিন

আর্টিলারিটিতে দিব্যস্ত্র ব্যাটারি এবং লয়েটার মিনিশন ব্যাটারি (এয়ার-লোটারিং অস্ত্র) দিয়ে সজ্জিত, যা ফায়ারপাওয়ার বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) এর মতো দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সজ্জিত করা হচ্ছে।

উদাহরণ: চিনা সেনা যদি LAC-তে অগ্রসর হয়, রুদ্র ব্রিগেডের ড্রোন শত্রুর অবস্থান সম্পর্কে রিপোর্ট করবে। সঙ্গে সঙ্গে কামান আক্রমণ করবে এবং বিশেষ বাহিনী আক্রমণ কর শানাবে।

ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন: শত্রুর মৃত্যু নিশ্চিত
ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন হল সেনাবাহিনীর নতুন ‘খতরনাক’ ইউনিট। তারা বিশেষ বাহিনীর মতো কাজ করবে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য সীমান্তে হঠাৎ আক্রমণ করা এবং শত্রুকে হয়রানি করা। তাদের বিশেষত্ব হল…

এজাইল: হালকা অস্ত্র এবং সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত যারা পাহাড় এবং বনে সহজে চলাচল করতে পারে।
ঘাতক: ছোট কিন্তু শক্তিশালী অস্ত্র, যেমন MP5 সাবমেশিন গান এবং দেশীয় ড্রোন বোমা।
গোপন অভিযান: রাতে বা কুয়াশায় শত্রুর উপর আকস্মিক আক্রমণ চালানোর প্রশিক্ষণ।

কাজ: এই ব্যাটালিয়ন শত্রুর সরবরাহ লাইন ভেঙে দিতে পারে। তাদের ঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে। এই ইউনিটগুলি ভারতকে LAC বা LOC-তে সুরক্ষা দেবে।

নতুন প্রযুক্তিতে সজ্জিত সেনাবাহিনী

প্রযুক্তির দিক থেকেও ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন এগোচ্ছে…

ড্রোন প্লাটুন: প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নে ড্রোন থাকবে, যা প্রকৃত সময়ে গুপ্তচরবৃত্তি করবে।
দিব্যস্ত্র ব্যাটারি: এগুলি হল আর্টিলারি সিস্টেম, যা নির্ভুলভাবে এবং দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত করতে পারে।
লোইটার মুনিশন: এই অস্ত্রগুলি বাতাসে উড়ে বেড়ায় এবং ছোট স্বয়ংক্রিয় বোমার মতো শত্রুকে আক্রমণ করে।
স্বদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র: আকাশ এবং কিউআরএসএএম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র বিমান প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার জন্য স্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রযুক্তিগুলি AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং স্যাটেলাইট ডেটা দ্বারা চালিত, যা শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখে। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলি স্বয়ংক্রিয়, তাই জওয়ানেরা কম ঝুঁকিতে থাকে।

এই পরিবর্তন কেন প্রয়োজন?
সীমান্ত নিরাপত্তা: 
LAC এবং LOC-তে চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই ব্রিগেডগুলি ভারতকে শক্তিশালী করবে। রুদ্র এবং ভৈরব শত্রুর আকস্মিক আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত।

আধুনিকীকরণ: সেনাবাহিনী এখন পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে প্রযুক্তি এবং বিশেষ বাহিনীর উপর নির্ভর করছে। দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি: ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। ভারত এগুলি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ভৈরবের মতো কমান্ডোরা ভবিষ্যতের গোপন যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ
প্রশিক্ষণ: 
নতুন প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য জওয়ান এবং কমান্ডোদের প্রশিক্ষণ দিতে সময় লাগবে।
খরচ: ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিশেষ অস্ত্র ব্যয়বহুল। বাজেটের সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
রক্ষণাবেক্ষণ: দেশীয় ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেড করা হবে চ্যালেঞ্জিং।

ভারতের জন্য এর অর্থ কী?
নিরাপত্তা: 
রুদ্র এবং ভৈরব সীমান্তে ভারতের দখলকে শক্তিশালী করবে।
গর্ব: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ইউনিটগুলি ভারতের শক্তি প্রদর্শন করে।
আঞ্চলিক প্রভাব: প্রতিবেশী দেশগুলিকে বার্তা যে ভারত এখন শক্তিশালী।

আরও পড়ুন:- ভারতে আসছে রোগা হওয়ার সস্তার ওষুধ, এই ওষুধ কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কতটা কার্যকরী হবে? জানুন

আরও পড়ুন:- এসব খাবারে কিডনিতে স্টোন তৈরি হয়, কিডনি ভাল রাখতে এই খাবার গুলি এড়িয়ে চলুন

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন