Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- মায়ানমার এবং ব্যাংককে ভূমিকম্পের মূলে ‘সাগাইং ফল্ট’। পৃথিবীর ভূত্বকের মানচিত্র দেখলে সহজেই এই অংশটি দেখতে পাবেন। আইআইটি কানপুরের আর্থ সায়েন্সেস ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক জাভেদ মালিক জানালেন, এই সাগাইং ফল্ট খুবই বিপজ্জনক।
তিনি জানালেন, শিলিগুড়িতে Ganges-Bengal নামের একটি Fault রয়েছে। এছাড়াও ভারতের আশেপাশে এমন বেশ কয়েকটি ফল্ট আছে। মায়ানমার ভূমিকম্পের পর, এমন ফল্টও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক জাভেদ মালিক বলেন, সাগাইং অনেক প্রাচীন একটি ফল্ট।
জাপান এবং ইউরোপের বিশেষজ্ঞরা এই সাগাইং ফল্ট নিয়ে বহু বছর ধরেই কাজ করেছেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই নির্দিষ্ট স্থানে ১৫০-২০০ বছর অন্তর ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে এই ১৫০-২০০ বছর অন্তরই একবারই বড় ধরনের ভূমিকম্প হয় এই ফল্টে। চিন বলছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭.৯ ছিল।
মায়ানমারে ভূমিকম্পের ফলে ধসে পড়েছে প্রাসাদোপম বাড়ি। (ছবি: রয়টার্স)
জোন-৫-এ নজর রাখা প্রয়োজন
অধ্যাপক জাভেদ মালিক বলেন, ‘হিমালয়ে অনেক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। সবাই সামনের কিছু অংশ নিয়েই কাজ করেছে। কিন্তু আমাদের উপরের দিকেও কিছু ফল্ট লাইন আছে। শুধুমাত্র প্লেটের সীমানার আশেপাশের ভূমিকম্পের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। উত্তর-পূর্ব এবং কাশ্মীর জোন-৫-এ রয়েছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’
গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট জোন
– Ganges-Bengal ফল্ট: এই অংশটি নিয়ে আরও গবেষণা-পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাগাইং ফল্টের মতো এরও গতিবিধি একই রকম। ফল্ট জোনটি ভূপৃষ্ঠেও দৃশ্যমান।
– ডাউকি, কোপলি, ডিব্রুচৌতাং ফল্ট জোন: এগুলি Ganges-Bengal এবং সাগাইং ফল্টের মধ্যে অবস্থিত।
– সাগাইং ফল্ট: মায়ানমারে ভূমিকম্পের মূলে ছিল এই ফল্ট। এই ফল্ট নিয়েই সাবধানে থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
অধ্যাপক জাভেদ মালিক বলেন, সাগাইং এবং Ganges-Bengal ফল্টের মধ্যে যে কিছুই ঘটছে না তা কিন্তু বলা যায় না। এই পুরো এলাকাটাই চাপের মধ্যে রয়েছে। এখানে ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে। তাছাড়া একটি ভূমিকম্পের থেকে যে আরও একটি ভূমিকম্প ট্রিগার হতে পারে না তা বলা যায় না। একে ‘ট্রিগার স্ট্রেস’ বলা হয়। উত্তর থেকে দক্ষিণে এই ধরনের কার্যকলাপ বেড়েছে কিনা সেটাই এখন নজর রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:- এপ্রিল ফুল! কেন ১ এপ্রিল মানুষকে বোকা বানানো হয় ? জেনে নিন দারুন ইন্টারেষ্টিং কাহিনী
মানসিক চাপ তৈরির সম্ভাবনা
– ভূমিকম্পের সূত্রপাত: একটি ভূমিকম্প আরেকটি ভূমিকম্পের সূত্রপাত করতে পারে।
– শক্তি সঞ্চয়: সমগ্র এলাকা চাপের মধ্যে রয়েছে এবং ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে।
– ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।
এমনকি অগভীর ভূমিকম্পও ক্ষতির কারণ হতে পারে
অধ্যাপক মালিক বলেন, ফল্ট লাইনগুলি খুব গভীরে ঘটে, যা ১০০-১৫০ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু ৫, ১০ এবং ২০ কিমি গভীরতার ভূমিকম্প আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে কারণ তারা অগভীর গভীরতা থেকে শক্তি নির্গত করে।
ভূমিকম্পের গভীরতা এবং ক্ষয়ক্ষতি
– গভীরতা: ১০০-১৫০ কিমি পর্যন্ত গভীরতায় ফল্ট লাইন দেখা দিতে পারে।
– ক্ষতি: অগভীর গভীরতার ভূমিকম্প আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে।
– শক্তি সংগ্রহ: অগভীর ভূমিকম্প অগভীর গভীরতা থেকে শক্তি সংগ্রহ করে।
আরও পড়ুন:- যে সংস্থায় কাজ করেন তার বাথরুম ভাড়া নিলেন তরুণী, কেন? জানলে চমকে যাবেন