আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ২,৬০০ জন। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কুনার এবং নানগারহার প্রদেশ দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।
সূত্রের খবর, রবিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের বসাওয়ুল থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার উত্তরে ৬.০ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের তীব্রতা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান এবং ভারতের কিছু অংশ, এমনকি দিল্লি পর্যন্তও অনুভূত হয়।
তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কুনার প্রদেশেই প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,৫০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে আরও ১২ জন নিহত এবং ২৫৫ জন আহত হয়েছেন। কুনার প্রদেশের নূর্গাল, চাওকে এবং ওয়াতাপুর জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে তিনটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর সেখানে পৌঁছতে অসুবিধা হচ্ছে। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আহত ও মৃতদের দ্রুত সরিয়ে আনা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৪২০ জন আহত ও মৃতকে ৪০টি ফ্লাইটে করে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
এদিকে, এই কঠিন সময়ে ভারত আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আফগানিস্তানকে সব ধরনের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর আফগান বিদেশমন্ত্রী মাওলাভি আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই ভূমিকম্পের জন্য ভারতের তরফে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ভারত থেকে ১,০০০ তাঁবু এবং ১৫ টন খাদ্যসামগ্রী ইতিমধ্যে কাবুলে পৌঁছেছে। আগামী দিনে আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালিবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি আফগানিস্তানের তৃতীয় ভয়াবহ ভূমিকম্প।














