ভোটমুখী বাংলায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও উন্নয়নের বার্তা দিতে দু’দিনের রাজ্য সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত রেল পরিকাঠামোকে সামনে রেখে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের কর্মসূচি নিয়ে শনিবার ও রবিবার মালদহ এবং হুগলির সিঙ্গুরে থাকছে তাঁর ব্যস্ত সূচি। তবে উন্নয়ন ঘোষণার পাশাপাশি এই সফরে রাজনৈতিক বার্তাও এদিন প্রকল্পের উদ্বোধনের আগেই প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল।
শুধুমাত্র মালদহেই ৩,২৫০ কোটির বেশি টাকার প্রকল্প ঘোষণা ও কাজের সূচনা হবে। এখান থেকেই দেশের প্রথম হাওড়া–গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করার কথা ঘোষণা করেন যা উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে দাবি কেন্দ্রের।
এ ছাড়া মোদির সফরের দ্বিতীয় দিন রবিবার, গন্তব্য হুগলির সিঙ্গুর। শিল্পাঞ্চল হিসেবে একসময় যে সিঙ্গুর রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, সেখান থেকেই ফের উন্নয়ন বনাম রাজনীতির বার্তা দিতে চান মোদি। জানা গিয়েছে একাধিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের পর এখানে একটি রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি।
বাংলায় পা রাখার আগেই প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দু’টি পোস্টের মাধ্যমে সফরের রূপরেখা তুলে ধরেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, দু’টি পোস্টই বাংলায় লেখা। রেল পরিকাঠামো জোরদারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি চড়াও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের উপর।
প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “আগামীকাল, ১৭ জানুয়ারি আমি পশ্চিমবঙ্গে থাকব। মালদায় একটি অনুষ্ঠানে ৩,২৫০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস হবে। এছাড়াও, আগামীকালের অনুষ্ঠানে হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ সূচনা করা হবে—এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
এছাড়াও লিখেছেন
পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আগামীকালের অনুষ্ঠানে বালুরঘাট–হিলি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে অত্যাধুনিক মালবাহী ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, শিলিগুড়ির লোকো শেডের উন্নয়ন এবং জলপাইগুড়িতে বন্দে ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করা হবে। পাশাপাশি, ৪টি নতুন অমৃত ভারত ট্রেনেরও শুভ সূচনা করা হবে। আগামীকাল বিজেপির সমাবেশে আমি মালদা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে যাবার সুযোগের অপেক্ষায় আছি। প্রতিদিনই তৃণমূলের অপশাসনের কোনও না কোনও নতুন উদাহরণ সামনে আসছে। তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তিতিবিরক্ত এবং এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করতে তাঁরা প্রস্তুত। মানুষ চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার।”
ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলায় উন্নয়ন ও রাজনীতির এই যুগলবন্দিই এখন কেন্দ্রের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।














