২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম উঠবে কি না, বা নাম বাদ পড়লে কার কাছে যাবে এই সব প্রশ্নের সমাধানে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ একটি আপিল আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে যে কোনও অভিযোগের বিচার করবেন এই অভিজ্ঞ বিচারপতিরাই।
সাধারণত ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ করে থাকেন বিএলও, ইআরও বা ডিইও রা। কিন্তু এবার বাড়তি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন ঠিক করেছে, যদি কোনও নাগরিকের মনে হয় তাঁর নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি সরাসরি বিচারপতিদের কাছে নালিশ জানাতে পারবেন। কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম-সহ মোট ১৯ জন নামী বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার, মালদা মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ও হুগলির মতো জেলাগুলোর জন্য আলাদা আলাদা বিচারপতি নিয়োগ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের এসআইআর এর ফাইনাল বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রাজ্যে ভোটার প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা ঝুলে রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নথিপত্র বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন ৫৩৫ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে শেষ মুহূর্তে জানা যায়, আজ নয় আগামী সোমবার থেকে ধাপে ধাপে এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ শুরু হবে। যাঁরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চুড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলেও এই অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আপনার নাম চলে আসার সুযোগ থাকছে। যদি এই অতিরিক্ত তালিকাতেও আপনার নাম না আসে, তখনই আপনি সরাসরি এই নতুন গঠিত প্রাক্তন বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।
এদিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালে কিভাবে আবেদন করবেন সে কথাও।
আবেদন করা যাবে দুই ভাবে—
১. অনলাইনে কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে (ECI NET) গিয়ে।
২. অথবা আপনার এলাকার মহকুমা শাসক (SDO) বা জেলাশাসকের (DM) দফতরে গিয়ে সশরীরে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। এবং সেখান থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা ট্রাইব্যুনাল তথা প্রাক্তন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের।
তবে, এই ট্রাইব্যুনালগুলি কেবল ২০২৬ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার সংশোধনের জন্যই কাজ করবে এবং সব বিচারাধীন ভোটারদের আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাইব্যুনালের মেয়াদ শেষ হবে।
ট্রাইব্যুনালে কে কোন জেলার দায়িত্ব রয়েছে দেখে নিন:
কোচবিহার জেলার ভোটারদের জন্য নিয়োগ করেছে প্রাক্তন বিচারপতি প্রনব কুমার দেব। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের দায়িত্ব সামলাবেন প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়। উত্তর দিনাজপুরের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি দেবী প্রসাদ দে এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি তৌফিক উদ্দিনকে নিয়োগ করা হয়েছে। মালদহ জেলার দায়িত্বে থাকছেন প্রাক্তন বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরী এবং মুর্শিদাবাদ জেলার (এসি ভিত্তিক) জন্য প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও বিশ্বজিৎ বসুকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দায়িত্ব সামলাবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগননম এবং প্রাক্তন বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ, হাওড়া জেলার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার দাশাধিকারী এবং হুগলির জন্য প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও নদিয়ার দায়িত্বে বিচারপতি রঘুনাথ রায়, পূর্ব বর্ধমানের জন্য বিচারপতি প্রভাত কুমার দে, পশ্চিম বর্ধমানের জন্য বিচারপতি মীর দারা শেকো, এবং বীরভূমের জন্য বিচারপতি মনোজিত মণ্ডল থাকছেন। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার যৌথ দায়িত্বে থাকছেন প্রাক্তন বিচারপতি মহম্মদ মমতাজ খান। পূর্ব মেদিনীপুরের জন্য বিচারপতি তাপন সেন এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব সামলাবেন প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এবার দুই দফায় ভোট হচ্ছে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল হবে। ভোটের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে ২০২৬ তারিখে।















