Bangla News Dunia, Pallab : ২০১৬ সালের এসএসসি’তে (SSC Recruitment Case Verdict) নিয়োগের পুরো প্যানেল বৃহস্পতিবার বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) রায়ই বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে বাতিল হয়েছে ২৫,৭৫২ জনের চাকরি। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে জানিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি, রায় মানতে পারছি না’।
আরও পড়ুন : এবার পশ্চিমবঙ্গে কেমন গরম সহ্য করতে হবে ? পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর
পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য বলে এদিন তোপ দাগেন মমতা। বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়াই বিজেপির (BJP) লক্ষ্য। এর বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই হবে। এদিন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এতগুলো মানুষের চাকরি যাওয়ার পরে বিজেপির মন্ত্রী সুকান্তবাবু বলছেন। আমি ফেসবুকে তাঁর উক্তি দেখেছি। অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে, এর জন্য নাকি আমরা দায়ী। আপনারা যখন প্রথমে কেস করলেন, একবারও ভাবলেন না কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য? সরকারকেও ভাবতে দিলেন না।’ এদিন শীর্ষ আদালতর সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিতেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাাধ্যায় ও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তারই প্রেক্ষিতে এদিন নবান্নে এমনটা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি, ২৬ হাজার চাকরি গেলে স্কুলে পড়াবে কে? এনিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, ‘যাঁদের বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১,১,৬১০ জন নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াতেন। ৫,৫৯৬ জন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন। বাকিরা অন্য ক্লাসে। আপনারা জানেন, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ‘গেটওয়ে’। তাঁদের মধ্যে অনেকে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখছেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয়, ২৬ হাজারের চাকরি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে স্কুল পড়াবে কে!’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের রায় যেমন আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তেমনই রায় আমাদের দু’টো পথও দিয়েছে। রায় মেনেই আমরা সেটা করব। ২০১৬ সালে কারা কারা মন্ত্রী ছিলেন, আমরা রেকর্ড খুঁজে বার করব। কোনও একটা জেলার কথা তো আমরা জানিই।’ মমতার কথায়, ‘আমি শুনেছি শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনেকে ডিপ্রেসড। আমরা চাই না একটাও দুর্ঘটনা ঘটুক। তাই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছি মানবিকতার স্বার্থে।’
মমতা বলেন, ‘এই পরিবারগুলি অচল হয়ে গেলে বিজেপি-সিপিএমও সচল থাকবে না। কোনও ঘটনা ঘটলে, দায়িত্ব আপনাদের হবে।’ মমতার কথায় এদিন উঠে আসে মধ্যপ্রদেশের ব্যাপমকাণ্ড। সুপ্রিম রায়কে তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিবাচকভাবে পদক্ষেপ করব।’ চাকরিহারাদের মানসিক চাপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁরা বিচার পাওয়ার জন্য ডিপ্রাইভড টিচারস অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করেছেন। তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, সবাই একত্রিত হতে চান।’ আগামী ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোরে তাঁদের কথা শুনতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।