সব বস্তিকে ঠিকা করার পরিকল্পনা ফিরহাদের, জানতে বিস্তারিত পড়ুন

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

firhad

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- কলকাতার সব বস্তি ঠিকা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি । এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ৷ তাঁর এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হল সিপিএম ৷ প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের কথায়, এমনটা হলে বস্তিবাসীদের ভিটের অধিকার আরও অনিশ্চিত হবে ।

ঠিকা করার পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের বস্তি বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার বলেন, “উনি (ফিরহাদ হাকিম) আইনসভার সদস্য, উনি জানেন এমনটা করা সম্ভব কি না । সপ্তাহখানেক আগেই টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে দুটি ফোন আসে । তাতে বস্তিবাসী দুই নাগরিক আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাদের উচ্ছেদের । তাদের হুমকি দেওয়া হয় । সেই শুনেই মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, কলকাতার সব বস্তি ঠিকা টেনেন্সি করা হবে ।”

তিনি আরও বলেন, “সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমাদের কলকাতা মুম্বই নয় । ধারাভি বস্তিকে প্রজেক্টের নামে প্রোমোটারের হাতে দিয়ে দেবে । শহরে গরিব বস্তিবাসীরা যেমন থাকবেন, তেমনই ধনী মানুষও থাকবেন । তাই গরিব বস্তিবাসীদের মাথার ছাদ যাতে কোনও প্রোমোটার কেড়ে নিতে না পারে, তার গ্যারান্টি দেবে কলকাতা পুরনিগম । সমস্ত বস্তির যাতে উত্তরণ হয়, তার দায়িত্ব পুরনিগমেরই । তাই সব বস্তিগুলিকে ঠিকা টেন্যান্সির আওতায় আনা হবে । যাতে প্রতিটি বস্তিবাসী জমির প্রজাস্বত্ব পায় । তারপর সেখানে বাংলার বাড়ি করে দেওয়া হবে ।”

আরও পড়ুন:- SSC মামলায় নতুন নিয়োগ কবে থেকে শুরু? এবারে কারা যোগ্য? বিস্তারিত জেনে নিন

 

তবে ফিরহাদ হাকিমের এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্রভাবে সমালোচনায় সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য । তিনি বলেন, “যখন দেশভাগের পর বহু লোকজন চলে গিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গো, ল্যান্ড সিলিং আইনের মাধ্যমে সেই লোকেদের জমি সরকার অধিগ্রহণ করেছিল, তাতে বহু মানুষ বসবাস করতেন । কিন্তু তাঁদের কোনও অধিকার ছিল না । তাঁদের বসবাসের বা মালিকানার কোনও সত্ত্বা ছিল না । তখন একটা প্রজা আন্দোলন হয় ৷ তারপর প্রজাস্বত্ব আইন তৈরি হয় । তাতে প্রজাস্বত্ব পান বহু মানুষ ।”

তাঁর কথায়, “কলকাতা বা রাজ্যের বাকি সব বস্তির চরিত্র তো এমটা নয় । অনেকের ব্যক্তিগত মালিক আছেন, জবরদখল জমি আছে, সরকারি জমি বা সরকার অধিগ্রহণ করা জমি আছে । উদ্বাস্তু পুনর্বাসন জমি আছে যেখানে নিঃশর্ত পাট্টা পেয়েছেন । ফলে কেন এরা কেউ চাইবেন ঠিকা টেনেন্সিতে যেতে । বস্তিবাসীরা চান তার জমির নিশ্চয়তা । তারা যাতে নিজেদের অধিকার নিয়ে থাকতে পারেন । এই আইনের আওতায় বস্তি আনলে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে ।”

এই বিষয়ে মধ্যপন্থা নিয়েছেন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার । তিনি বলেন, “কলকাতায় প্রচুর উত্তরণ (বস্তি) আছে নানা চরিত্রের । যেমন ঠিকা, রেল, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন । আমাদের নেতা কলকাতার মহানাগরিক তিনি আইনসভার সদস্য । তিনি যদি বিধানসভায় আইন পাশ করিয়ে মানুষের স্বার্থে কিছু করতে পারেন তাহলে ভালো হবে ৷ সেটা স্বাগত জানাই । মেয়র ঘোষণা করেছেন আইন হলে প্রণয়ন করার ভাবনা শুরু হবে । আমি তো আইনসভার সদস্য নই ।”

আরও পড়ুন:- ভেজাল-বিষাক্ত পনিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার, কিভাবে ভেজাল পনির চিনবেন জেনে নিন

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন