Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- স্বাস্থ্য বীমা বা হেলথ ইনস্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে অনেকেই আছেন যারা সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু এখনও এমন কোটি কোটি মানুষ আছেন যারা এর সুবিধা সম্পর্কে তেমন কিছু জেনে উঠতেই পারেননি। যেভাবে বিভিন্ন সময় মানুষ তোকে আক্রান্ত হচ্ছে এর জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে, রোগীর জন্য আর্থিক খরচ কিছুটা ছাড় পাওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ব্যক্তির প্রয়োজন হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসি (Health Insurance Policy) করে রাখা।
স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা
ভারতে বিভিন্ন রকমের হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসি রয়েছে। শুধুমাত্র আপনাকে সেরা চিকিৎসা খুঁজে দিবে না আপনার স্বাস্থ্যের সমস্যা কিন্তু একটা মোটামুটি আর্থিক কভারেজের মধ্যে করে দিতে পারবে। আজকের এই প্রতিবেদনে ভারতের বিভিন্ন স্বাস্থ্য বীমা প্ল্যান সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো এছাড়া এর যে সুবিধা রয়েছে সেই গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব।
আরও পড়ুন:- ভারতেও ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেন IIT কানপুরের গবেষক
হেলথ ইনস্যুরেন্স কেন দরকারি?
ইন্ডিভিজুয়াল হেলথ ইনস্যুরেন্স (Individual Health Insurance) :- একটি ইন্ডিভিজুয়াল হেলথ ইনস্যুরেন্স প্ল্যান একজন একক ব্যক্তির জন্য. নাম অনুযায়ী, এটি একজন ব্যক্তি কিনতে পারেন। যে ব্যক্তি এই প্ল্যানের সাথে নিজেকে ইনসিওর্ড করেন, তাকে অসুস্থতা এবং চিকিৎসার খরচের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই ধরনের মেডিকেল ইনস্যুরেন্স প্ল্যান ইনসিওর্ড সীমায় পৌঁছানো পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি।
সার্জিকাল, প্রি এবং পোস্ট মেডিকেশন খরচ কভার করে. ক্রেতার বয়স এবং চিকিৎসার বিবরণের ভিত্তিতে প্ল্যানের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়। ইনসিওর্ড ব্যক্তি একই প্ল্যানের অধীনে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম পে করে তার স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা মাকেও কভার করতে পারেন। তবে, যদি আপনি কোনও বিদ্যমান অসুস্থতার জন্য ইনসিওর্ড হন, তাহলে সুবিধা গুলি ক্লেম করার জন্য 2 – 3 বছরের ওয়েটিং পিরিয়ড থাকবে।
একজন ব্যক্তির জন্য এই হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসি তৈরি করা হয়েছে। সার্জারি, ডে – কেয়ার চিকিৎসা, রুমের ভাড়া, ডাক্তারের পরামর্শ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের মতো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ কভার করে। 18 থেকে 65 বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এই পলিসি প্রযোজ্য। সেই রকমের কিছু পলিসি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ফ্যামিলি হেলথ ইনস্যুরেন্স (Family Health Insurance) :- এই পলিসি একটি পরিবারের সকল ব্যক্তির স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ প্রদান করে। পরিবারের শুধুমাত্র একজন সদস্যকেই প্রিমিয়াম দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ পরিবারকে একটি প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ইনসিওর্ড করা হবে। ডাক্তারের ফি, ডে-কেয়ার চিকিৎসা, নার্সিং, সার্জারি এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধ সহ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচের জন্য কভারেজ প্রদান করে এই পলিসি প্ল্যান।
ক্রিটিকাল ইলনেস ইনস্যুরেন্স প্ল্যান (Critical Illness Insurance) :- প্রাণঘাতী রোগের জন্য একটি বড়ো অ্যামাউন্ট অফার করে ব্যক্তিকে ইনসিওর করা হয়। ইনস্যুরেন্স কেনার সময়, নির্বাচিত স্বাস্থ্যের সমস্যা গুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ক্রিটিকাল ইলনেস ইনস্যুরেন্সে রোগের তালিকা – মেজর অর্গান ট্রান্স প্ল্যান্ট, ক্যান্সার, এওরটা গ্রাফ্ট সার্জারি, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, স্ট্রোক, মাল্টিপল স্কেলেরোসিস, প্যারালাইসিস, প্রথম হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি, পালমোনারি আর্টিরিয়াল হাইপারটেনশনের প্রাথমিক অবস্থা।
সিনিয়র সিটিজেন হেলথ ইনস্যুরেন্স (Senior Citizen Health Insurance) :- 65 বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এই পলিসি ডিজাইন করা হয়েছে। আপনার বাড়িতে যদি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কোন ব্যক্তি থাকে তার জন্য নিঃসন্দনে এই পলিসি প্ল্যান আপনি কিনতে পারেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে তারপর ভর্তি চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই কভারেজ পাওয়া যায়। অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি, ডোমিসিলিয়ারি, সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসার খরচ কভার করে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে প্রিমিয়াম বেশি হয়।
প্রসূতি স্বাস্থ্য বীমা (Maternity Health Insurance) :- এই স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ টি একজন সন্তান প্রসবকারির মহিলার ম্যাটারনিটি পিরিয়ড এবংহেলথ প্রসবের সাথে যুক্ত চিকিৎসার খরচ কভার করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি প্রসবের আগের এবং পরের যত্ন, ডেলিভারির খরচ এবং নবজাতক উভয়ের জন্যই কম্প্রিহেন্সিভ কভারেজ প্রদান করে, এর ফলে পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা অনেকটাই কম হয়। প্রসবের আগের, প্রসবের পরের এবং ডেলিভারির খরচ কভার করে, নবজাতক শিশুর খরচ যেমন – টিকা করণ এবং শিশুর যত্নের খরচ কভার করতে পারে।
পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট ইনস্যুরেন্স (Personal Accident Insurance) :- বর্তমানে যানবাহনের মাত্রা অত্যধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায় বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি সংখ্যাবৃত্তি পায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ভারতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট ইন্সুরেন্স করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি যদি শারীরিক অক্ষমতা শিকার হয়, তার চিকিৎসা জনিত খরচ বহন করার জন্য অ্যাক্সিডেন্ট ইন্সুরেন্স পলিসি করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
এছাড়া তার জীবন হানির জন্য পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট ইনস্যুরেন্স পলিসির ফিচার – দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু এবং স্থায়ী বা আংশিক অক্ষমতা কভার করে, প্রতিবন্ধীদের জন্য সাপ্তাহিক ক্ষতি পূরণ অফার করে, মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে পরিবারকে একটি লাম্পসাম পেমেন্ট প্রদান করে।
গ্রুপ হেলথ ইনস্যুরেন্স (Group Health Insurance) :- গ্রুপ হেলথ হল যেখানে অনেক মাঝারি এবং বড় আকারের এন্টার প্রাইজ কোম্পানিগুলো তাদের কর্মচারীদের জন্য এই ইনস্যুরেন্স পলিসি অফার করে থাকে। এটি কর্মচারীদের কোম্পানিতে আর্থিক সমস্যা এবং সম্মান পূরণ করার জন্য অফার করা হয়। কর্মচারী এবং সম্ভবত তাদের পরিবারের জন্য কভারেজ প্রদান করে।
মেডিক্লেম ইনস্যুরেন্স (Mediclaim Insurance) : কোন মানুষের জীবনে দুর্ঘটনা বয়ে কয়ে আসেনা। একজন ব্যক্তির হঠাৎ অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার থেকে চিকিৎসা জনিত যাবতীয় খরচ বহন করার জন্যই মেডিক্লেম করে রাখা অত্যন্ত জরুরী। এটি ইন পেশেন্ট খরচের জন্য কভারেজ প্রদান করে যার মধ্যে সার্জারির খরচ, ডাক্তারের ফি, নার্সিং চার্জ, অক্সিজেন এবং অ্যানেস্থেশিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুধুমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসারত ব্যক্তির চিকিৎসা জনিত খরচ যেমন ডাক্তারের ফি, নার্সিং, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া এবং অক্সিজেনের খরচ কভার করে।
Benefits of Health Insurance
হেলথ ইনস্যুরেন্স হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় যাবতীয় খরচ কভার করার মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে। এর ফলে আপনার জমানো অর্থ অনেকটাই সেফ থাকে। বিভিন্ন ধরনের পলিসি হয়। কিছু পলিসি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সমস্ত খরচ কভার করতে পারে না বা কভারেজের নির্দিষ্ট সীমা থাকতে পারে।
কম্প্রিহেন্সিভ হেলথ ইনস্যুরেন্স প্ল্যানগুলি প্রায়শই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে এবং পরের খরচ, ডে-কেয়ার পদ্ধতি এবং অ্যাম্বুলেন্স চার্জ কভার করে।
অনেক হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার বিকল্প অফার করে। কিছু পলিসের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ধারা 80 D-র অধীনে কর ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। এই কর ছাড়ের পরিমাণ নির্ভর করে পলিসিহোল্ডারের বয়স এবং পে করা প্রিমিয়ামের উপর। 60 বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের জন্য 25,000 টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য 50,000 টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:- যে সংস্থায় কাজ করেন তার বাথরুম ভাড়া নিলেন তরুণী, কেন? জানলে চমকে যাবেন