১৯০০ পড়ুয়ার জন্য ‘রইল বাকি তিন’ !

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

Bangla News Dunia, Pallab : ফরাক্কা ব্লকে (Farakka) আদিবাসী অধ্যুষিত পিছিয়ে পড়া এলাকা বাহাদুরপুর। এই গ্রামেরই একপ্রান্তে ১৯৯৭ সালে গড়ে ওঠে বাহাদুরপুর উচ্চবিদ্যালয়। এলাকাবাসীরা ভেবেছিল পিছিয়ে পড়া জায়গার ছেলেমেয়েরা এবার হয়তো এগিয়ে যাবে। কিন্তু সুপ্রিম রায়ে সেই স্বপ্নে ধাক্কা খেল।

সেইসময় ১০ জন শিক্ষককে নিয়ে স্কুল পথ চলা শুরু করে। একটা সময় শিক্ষকের সংখ্যা পৌঁছে যায় চল্লিশের কাছাকাছি। তারপর উৎসশ্রী  প্রকল্পের মাধ্যমে বহু শিক্ষক চলে যান অন্যত্র। পাশাপাশি অবসর নেন বেশ কয়েকজন। কমতে কমতে শিক্ষকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৮। ঠিক এই সময়েই সুপ্রিম রায়ে চাকরি হারালেন আরও ৫ শিক্ষক। পাটি গণিতের সহজ নিয়মে একজন টিআইসি সহ মোট শিক্ষকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল তিনে। আর এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৯০০।

আরও পড়ুন : এবার পশ্চিমবঙ্গে কেমন গরম সহ্য করতে হবে ? পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর

ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রেমকুমার ঘোষের মন্তব্য, ‘অনেক আশা নিয়ে পিছিয়ে পড়া বাহাদুরপুরে স্কুলটা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এই রায়ের পর সবটাই তছনছ হয়ে গেল। বর্তমানে গণিত, পদার্থ এবং রসায়ন বিজ্ঞানের কোনও শিক্ষক থাকল না।’

এই মুহূর্তে জীব বিজ্ঞানের দুইজন এবং একজন কলা বিজ্ঞানের শিক্ষক পড়ে রয়েছেন। ফলে সংকট আর হতাশায় ১৯০০ জন পড়ুয়া। স্কুলের সহ শিক্ষক উত্তম সরকারের মতে, ‘শুধু স্কুলের ক্লাস নেওয়াই নয়, আনুষঙ্গিক কাজকর্ম চালানোর ক্ষমতা আর আমাদের নেই।’

শুক্রবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল পরীক্ষার খাতা হাতে স্কুলে বিষন্ন মনে দাঁড়িয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক শুভাশিস মান্না। প্রশ্ন করতেই তিনি বলে ওঠেন, ‘আমি আজকেও স্কুলে এসেছি। যেহেতু সিমেস্টারের পরীক্ষা চলছে তাই আমি স্কুলে এসেছি। পড়ুয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা মানা যায় না। ওরাও আমাকে খুব ভালোবাসে। ওদের দোষ কি? দেখতেই পাচ্ছেন হাতে পরীক্ষার খাতা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি দেখব বলে। যেহেতু এখানে স্টাফ কম তাই ব্যাকআপ খুবই কম। তাই এত পড়ুয়া কীভাবে সামলাবেন বাকি শিক্ষকরা তা বুঝতে পারছি না।’

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন