উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানি ভূখণ্ডে নিখোঁজ বিমানসেনাকে উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বড়সড় ত্যাগের কথা স্বীকার করল পেন্টাগন! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মিশনকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দাবি করলেও, একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, শত্রুপক্ষের হাতে উন্নত প্রযুক্তি চলে যাওয়া রুখতে পিছু হটার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেদেরই দুটি অত্যাধুনিক MC-130J পরিবহন বিমান ধ্বংস করে এসেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি MC-130J বিমান এই উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত ছিল। কিন্তু মিশন চলাকালীন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বিমান দুটি দুর্গম এলাকায় আটকে যায়। ইরানি বাহিনী ধাওয়া করার আগেই গোপন প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম যাতে শত্রুর হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কমান্ডোরা বিমান দুটিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দেন। এরপর বিকল্প বিমানে করে উদ্ধারকৃত সেনা সহ মূল দল নিরাপদ স্থানে ফিরে আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনকে নজিরবিহীনভাবে উপহাস করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবফ (Ghalibaf)। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন বিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের একটি ছবি শেয়ার করেন।
ক্যাপশনে তিনি তীব্র শ্লেষের সাথে লিখেছেন:”আমেরিকা যদি এমন আরও তিনটি ‘বিজয়’ অর্জন করে, তবে দেশটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
বিমানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি দাবি করেছেন, কোনো মার্কিন প্রাণহানি ছাড়াই এই অপারেশন সফল হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, “বিমানের চেয়ে আমাদের বীর সেনাদের প্রাণের মূল্য অনেক বেশি।” তবে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শত্রুদেশের ভেতরে ঢুকে নিজেদের বিমান ধ্বংস করে আসা মার্কিন বিমান বাহিনীর সক্ষমতার ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।
এক নজরে MC-130J বিমান
- ব্যবহার: অত্যন্ত গোপনে শত্রু সীমানায় অনুপ্রবেশ এবং সৈন্য উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- বৈশিষ্ট্য: রাতে ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ওড়ার বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন।
- গুরুত্ব: এর ভেতরের র্যাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয়।














