32000 Teacher Case: আবার ঝুলে গেল ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি? হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মামলা হল সুপ্রিম কোর্টে

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

32000 Teacher Case: পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলাটি এক নতুন আইনি মোড় নিল। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। ইতিপূর্বে হাইকোর্ট এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে সর্বোচ্চ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দায়ের করা হয়েছে। এই নতুন আইনি পদক্ষেপে আবারও হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মৈত্রর বেঞ্চ গত ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ২০১৭ সালের নন-ট্রেইনড শিক্ষকদের চাকরি সুরক্ষিত রাখার রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের প্রায় তিন মাস পর, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি দাখিল করেছেন।

  • ফাইলিং তথ্য: পিটিশনটি রাত ১১টা ১২ মিনিটে জমা দেওয়া হয়।
  • স্ট্যাটাস: বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের সেকশন আইবিএ-এর অধীনে পেন্ডিং রয়েছে। ডায়েরি নম্বর পাওয়া গেলেও, এখনও পর্যন্ত এসএলপি নম্বর বা সিএনআর নম্বর এবং শুনানির তারিখ নির্দিষ্ট হয়নি।
  • পক্ষ-বিপক্ষ: এই মামলায় রেসপন্ডেন্ট হিসেবে ‘ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’র নাম থাকলেও, রাজ্য সরকার বা ‘স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’-কে সরাসরি যুক্ত করা হয়নি। মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করবেন আইনজীবী শেখর কুমার।

মূল আবেদনকারী পরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ

এই মামলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মূল আবেদনকারীর পরিবর্তন। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার মূল মুখ ছিলেন প্রিয়াঙ্কা নস্কর। কিন্তু সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেই চাকরি পেয়ে যাওয়ায়, আইনি নিয়ম মেনে তিনি আর এই মামলার নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। এমতাবস্থায়, মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্বপন বৈদ্য বর্তমানে মূল পিটিশনার হিসেবে মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, মূল ১৪৩ জন মামলাকারীর মধ্যে প্রায় ৭০ জন এই এসএলপি-তে যুক্ত হয়েছেন, কারণ বাকিরা ইতিমধ্যেই চাকরি পেয়ে গিয়েছেন।

চাকরিপ্রার্থীদের মোকাবিলায় শিক্ষকদের ‘ক্যাভিয়েট’ বর্ম

মামলাকারীরা যাতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একতরফা কোনো স্থগিতাদেশ বা রায় আদায় করতে না পারেন, সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং নিযুক্ত শিক্ষকরা। হাইকোর্টের রায়ের অব্যবহিত পরেই তারা সুপ্রিম কোর্টে একাধিক ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছেন। এর ফলে, সুপ্রিম কোর্ট উভয় পক্ষের যুক্তি না শুনে কোনো নির্দেশ দেবে না।

ক্যাভিয়েট দাখিলের সময়কাল (২০২৫):

  • ৫ই ডিসেম্বর: তুহিন কুমার হালদার ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
  • ৮ই ডিসেম্বর: রাজ্য সরকার।
  • ৯ ও ১০ই ডিসেম্বর: প্রেমেন্দু চক্রবর্তী এবং পার্থপ্রতিম ভট্টাচার্য।
  • ১৫ই ডিসেম্বর: দীপ্তেন্দু বৈদ্য।

আইনজীবীদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, কলকাতা হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকার সম্ভাবনাই প্রবল। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে স্পষ্ট করেছিল যে, এই ৩২,০০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতির কোনো সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, যা ২৬,০০০ চাকরি বাতিলের মামলায় পাওয়া গিয়েছিল। তবে, মামলাকারীরা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে মেধা তালিকায় কাট-অফ নম্বরের বেশি পেয়েও তারা বঞ্চিত হয়েছেন, সেক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত তাদের নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারে। আপাতত সকল পক্ষই সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায়।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন