7th Pay Commission: ২০২৫ সাল শেষ হতে আর হাতে মাত্র ৫ দিন বাকি। বছর শেষের এই সময়ে দাঁড়িয়েও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নতুন বছর আসার আগেই কি রাজ্য সরকারি কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) এবং সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) নিয়ে কোনও সুসংবাদ পাবেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। সরকার এখনও পর্যন্ত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য না করায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
ইউনিটি ফোরামের চরম হুঁশিয়ারি
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়েছে। সম্প্রতি ‘ইউনিটি ফোরাম’ (Unity Forum) নামক সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনটি রাজ্য সরকারকে একটি কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সপ্তম পে কমিশন গঠন করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার এই পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন। প্রয়োজনে তাঁরা হাইকোর্টে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন। বছর শেষের মুখে এই আল্টিমেটাম সরকারের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’
ইউনিটি ফোরামের পাশাপাশি ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’ নামক শিক্ষক ও কর্মীদের সংগঠনটিও সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে মূলত দুটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে:
- অবিলম্বে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন: অতীতে দেখা গেছে, কেন্দ্রে নতুন বেতন কমিশন গঠনের পরেই রাজ্যেও নতুন কমিশন গঠিত হয়। সেই প্রথা মেনে দ্রুত সপ্তম পে কমিশন গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- বকেয়া ডিএ মেটানো: ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, রাজ্য সরকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করবে। তবে চিঠি দেওয়ার বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও ইতিবাচক সাড়া বা আপডেট মেলেনি।
কেন্দ্র বনাম রাজ্য: বেতন কমিশনের ফারাক
চিঠিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যা সরকারি কর্মীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের (6th Pay Commission) অধীনে বেতন পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) লাগু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কেন্দ্রীয় কর্মীরা যখন অষ্টম কমিশনের দোরগোড়ায়, তখন রাজ্যের কর্মীরা সপ্তম কমিশনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এই বিশাল ব্যবধান কর্মীদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বছর শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, নাকি কর্মীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।














