7th Pay Commission: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য বাজেটে এল বিরাট সুখবর। সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই পেশ হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফোটালেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে খুশির হাওয়া এনে দিয়েছে।
শুধু বেতন কমিশন গঠনই নয়, এর পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়েও বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই ঘোষণার বিস্তারিত দিকগুলি এবং এর প্রভাব।
৭ম পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে নতুন পে কমিশন গঠনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্টস বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেন।
বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী জানান, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে-কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত এই কমিশন আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে পর্যালোচলা করে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবে। মূলত কর্মীদের জীবনযাত্রার মান ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো ঠিক করাই হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ।
৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং কার্যকর হওয়ার সময়
বেতন কমিশনের পাশাপাশি বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কর্মীদের সুরাহা দিতে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণাও করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
- বৃদ্ধির পরিমাণ: মূল বেতনের ৪ শতাংশ।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: আগামী ১লা এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকেই সরকারি কর্মীরা বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন, যা নির্বাচনের আগে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পে কমিশনের প্রেক্ষাপট ও অতীত ইতিহাস
সাধারণত কেন্দ্র এবং রাজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন পে কমিশন বা বেতন কমিশন গঠন করার রীতি প্রচলিত আছে, যদিও এর কোনো কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি কর্মচারীরা বহুদিন ধরেই মূল বেতন, গ্রেড পে এবং ভাতা কাঠামোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে শেষবার বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর।
- ষষ্ঠ বেতন কমিশন: গঠন করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর।
- সময়ের ব্যবধান: ষষ্ঠ কমিশনের প্রায় দশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার মুখেই সপ্তম কমিশনের ঘোষণা করা হল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি কর্মী সংগঠনের একাংশ আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন যে বাজেটে এমন কোনো বড় ঘোষণা আসতে পারে। সেই জল্পনাকে সত্য প্রমাণ করেই রাজ্য সরকার এই জনমোহিনী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।














