8th Pay Commission: ছুটির নিয়মে বিরাট বদল! অষ্টম পে কমিশনে কর্মীদের জন্য কী কী দাবি উঠল?

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

8th Pay Commission: অষ্টম পে কমিশন নিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই আবহে ‘অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’-এর তরফ থেকে অষ্টম পে কমিশনের চেয়ারপার্সন রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের কাছে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফেডারেশনের সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেল সম্প্রতি এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া সামনে এনেছেন। এই দাবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল কর্মীদের ছুটির নিয়মে পরিবর্তন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (UT) ও কেন্দ্রীয় স্বশাসিত সংস্থার (CAB) কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধার সম্প্রসারণ।

লিভ এনক্যাশমেন্ট এবং ছুটির নিয়মে বড় বদলের দাবি

ফেডারেশনের অন্যতম প্রধান দাবি হল কর্মীদের ছুটির কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা। মূলত যে বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল:

  • লিভ এনক্যাশমেন্ট বৃদ্ধি: অবসরের সময় অর্জিত ছুটির বা আর্নড লিভের (EL) নগদায়নের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪০০ দিন করার দাবি জানানো হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাধারণত একজন কর্মী ২৫ বছর বয়সে চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রায় ৩৫ বছর কাজ করেন, যার জন্য ৫০টি অতিরিক্ত ছুটি পাওনা হওয়া উচিত। পাশাপাশি অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলে আরও ৫০টি ছুটির নগদায়ন যোগ করা উচিত।
  • ফ্যামিলি কেয়ার লিভ: পুরুষ কর্মীদের জন্য বয়স্ক বাবা-মা বা অসুস্থ আত্মীয়দের দেখভালের স্বার্থে ১ বছরের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কেয়ার লিভ’ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এটি মহিলাদের প্রাপ্ত ২ বছরের চাইল্ড কেয়ার লিভের (CCL) সমতুল্য একটি প্রস্তাব।
  • বিশেষ ছুটি: বর্তমানে পুরুষ কর্মীরা পিতৃত্বকালীন ১৫ দিনের ছুটি পান। এর পাশাপাশি বিবাহ বা পরিবারের অন্য কোনও জরুরি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ২৮ দিনের বিশেষ ছুটির দাবি জানানো হয়েছে।
  • শিক্ষকদের ছুটি বৃদ্ধি: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল লিভ (CL) ৮ থেকে বাড়িয়ে ১৪ এবং আর্নড লিভ (EL) ১০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করার দাবিও রয়েছে।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

বর্তমানে ইউপিএসসি (UPSC)-এর মাধ্যমে নিয়োগ না হওয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও ক্যাব কর্মীরা সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিমের (CGHS) সুবিধা পান না। অবসরের পর নিজ রাজ্যে ফিরে গেলে তাঁদের ক্যাশলেস চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অসুবিধায় পড়তে হয়।

ফেডারেশনের দাবি, এই কর্মীদেরও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মতো সিজিএইচএস (CGHS)-এর আওতাভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, সরকারের নির্দেশিকা, বিশেষ করে পেনশন বা ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (UPS)-এর মতো সিদ্ধান্তগুলি যাতে সমস্ত স্তরের কর্মীদের জন্য একই সঙ্গে এবং দ্রুত কার্যকর হয়, সে বিষয়েও অষ্টম পে কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অনেক সময়ই ক্যাব কর্মীদের জন্য এই নির্দেশিকাগুলি অত্যন্ত দেরিতে কার্যকর করা হয়, যা বৈষম্যের সৃষ্টি করে।

কবে থেকে কার্যকর হতে পারে অষ্টম পে কমিশন?

অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশগুলি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করা উচিত। অর্থাৎ, যখনই কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করুক না কেন, কর্মীদের বকেয়া বা এরিয়ার ওই নির্দিষ্ট দিন থেকেই হিসাব করা উচিত।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কমিশনকে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়ে থাকে এবং বাস্তবায়নের জন্য আরও প্রায় ৬ মাস লাগতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিনক্ষণ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হবে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন