8th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এখন একটাই আলোচনার বিষয়—অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাই সকলের নজর এখন ২০২৬ সালের দিকে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কাদের বেতন কতটা বাড়বে, এরিয়ার বা বকেয়া টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে এবং নতুন পে-কমিশনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। এই প্রতিবেদনে আমরা সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।
৮ম বেতন কমিশন কী এবং কবে থেকে কার্যকর?
ভারতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের জন্য প্রতি ১০ বছর অন্তর একটি করে বেতন কমিশন বা Pay Commission গঠন করা হয়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত এমনটিই হয়ে আসছে। সপ্তম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে কার্যকর হয়েছিল এবং এর ১০ বছরের চক্রটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হতে চলেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ৮ম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর (Effective) হওয়ার কথা। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো মুদ্রাস্ফীতি এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা, যাতে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
কার্যকর তারিখ বনাম বাস্তবায়নের তারিখ
বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে দুটি তারিখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—’কার্যকর তারিখ’ (Effective Date) এবং ‘বাস্তবায়নের তারিখ’ (Implementation Date)।
- কার্যকর তারিখ: এটি ১ জানুয়ারি ২০২৬। অর্থাৎ, এই তারিখ থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর হিসাব শুরু হবে।
- বাস্তবায়নের তারিখ: এটি সেই দিন, যেদিন থেকে কর্মীরা হাতে বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করবেন। যেহেতু কমিশন গঠন, রিপোর্ট তৈরি, ক্যাবিনেট অনুমোদন এবং বাজেটে অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, তাই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এই বর্ধিত বেতন হাতে আসার সম্ভাবনা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হতে ২০২৭ বা ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) কীভাবে হিসাব হবে?
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, যদি ২০২৬-এর বদলে ২০২৭ বা ২০২৮ সালে বেতন বাড়ে, তবে মাঝখানের সময়ের কী হবে? চিন্তার কোনো কারণ নেই, এই সময়ের বর্ধিত বেতন ‘এরিয়ার’ (Arrears) হিসেবে দেওয়া হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার মাসিক বেতন বৃদ্ধি ৭,০০০ টাকা হয় এবং নতুন স্কেল চালু হতে ১ বছর দেরি হয়, তবে আপনি ১২ মাসের এরিয়ার এককালীন পাবেন।
- হিসাব: ৭,০০০ টাকা x ১২ মাস = ৮৪,০০০ টাকা।
দেরি যত বেশি হবে, এরিয়ারের পরিমাণও তত বাড়বে। সরকার আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই টাকা এককালীন অথবা কিস্তিতে প্রদান করতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক
বেতন কতটা বাড়বে তা মূলত নির্ভর করে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর ওপর। ৭ম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। ৮ম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এটি ২.১৫ হতে পারে।
যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১৫ ধরা হয়, তবে বিভিন্ন লেভেলে বেতনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| লেভেল / পদ | বর্তমান বেসিক (আনুমানিক) | সম্ভাব্য নতুন বেসিক (২.১৫ ফ্যাক্টরে) |
|---|---|---|
| লেভেল ১ (গ্রুপ ডি) | ১৮,০০০ টাকা | ৩৮,৭০০ টাকা |
| লেভেল ৫ | ২৯,২০০ টাকা | ৬২,৭৮০ টাকা |
| ক্যাবিনেট সেক্রেটারি (লেভেল ১৮) | ২.৫ লক্ষ টাকা | ৫,৩৭,৫০০ টাকা |
গুরুত্বপূর্ণ: মনে রাখবেন, নতুন কমিশন চালু হলে পুরনো মহার্ঘ ভাতা (DA) বেসিকের সঙ্গে মিশে শূন্য হয়ে যায়। তাই প্রকৃত লাভ বুঝতে হলে (বর্তমান বেসিক + বর্তমান DA)-এর সঙ্গে নতুন বেসিকের তুলনা করতে হবে।
ট্যাক্স এবং রাজনৈতিক সমীকরণ
বড় অঙ্কের এরিয়ার পাওয়ার একটি অসুবিধাও রয়েছে—ট্যাক্স। এককালীন অনেক টাকা পাওয়ার ফলে ওই নির্দিষ্ট বছরে কর্মীর মোট আয় বেড়ে গিয়ে তিনি উচ্চতর ট্যাক্স স্ল্যাবে (যেমন ৩০%) চলে যেতে পারেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, আয়কর আইনের ধারা ৮৯(১) অনুযায়ী কর্মীরা এর জন্য ‘রিলিফ’ বা ছাড় দাবি করতে পারেন।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখলে, ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন রয়েছে। তাই সরকার চাইবে নির্বাচনের আগেই কর্মীদের খুশি করতে। সেই হিসেবে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে ৮ম বেতন কমিশন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।














