Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- গত 9 জুলাই কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ভারত বনধের সমর্থনে পথে নেমে চড় খেয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বামনেতা মাজেদুর রহমান ৷ সেই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ওই জেলার বুনিয়াদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করল সিপিএম ৷ সেদিন যেহেতু মাজেদুরকে চড় মেরেছিলেন বংশীহারী থানার আইসি, তাই এই সমাবেশ থেকে সরাসরি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ৷
সমাবেশ মঞ্চের অদূরেই থাকা মহাত্মা গান্ধির মূর্তি দেখিয়ে সেলিম বললেন, ‘‘আমরা মার্কসবাদী, গান্ধিবাদী নই, যে একগালে চড় মারলে আরেকটা গাল বাড়িয়ে দেব, সেটা পার্টি সিপিএম নয়, সেটা লাল ঝান্ডা নয় ৷’’
বংশীহারী থানার আইসি অসীম গোপ, যিনি দক্ষিণ দিনাজপুরে সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের জেলা কমিটির সদস্য মাজেদুর রহমানকে চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ইংরেজ আমলের পুলিশের তুলনা করেছেন সেলিম ৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের কথায়, ইংরেজ আমলেও এমন হতো ৷ সেই সময়ের অত্যাচারী পুলিশকে কেউ মনে রাখেনি ৷ কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সবাই মনে রেখেছে ৷
সেলিমের আরও বক্তব্য, মাজেদুর রহমান খেতমজুর নেতা, তাঁকে এই জেলার মানুষ চিনত ৷ এখন রাজ্যের সকলে চিনেছেন মাজেদুরকে ৷ তিনি এখন প্রশংসিত ৷ কিন্তু বংশীহারী থানার আইসি সব জায়গায় সমালোচনা শুনছেন ৷ পাশাপাশি সেলিম পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘যারা শাসক দলের দালালি করতে গিয়ে নিজেকে হিরো ভেবেছে, দাবাং ভেবেছে, সবাই সলমন খান হয়ে যায় না ৷ তাদের মধ্যে কেউ শেষপর্যন্ত পার পায়নি ৷ অনেকে বেঁচে ফেরেনি ৷ এটাই হচ্ছে নিয়ম ৷’’

দক্ষিণ দিনাজপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷
এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন মহম্মদ সেলিম ৷ তিনি বলেন, ‘‘গোটা দেশে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল খেটে খাওয়া মানুষের তরফ থেকে লুটে খাওয়া লোকেদের বিরুদ্ধে ৷ আন্দোলন ছিল গোটা দেশে মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে, বিজেপি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে৷ কথায় বলে না, ছুঁচোর গোলাম চামচিকে ৷ সেরকম বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছটফটানি আরম্ভ করে দিল ৷ আর তাঁর দালাল চামচিকে পুলিশ এখানে আমাদের কমরেডের উপর হাত তুলল ৷’’
সিপিএমের বিক্ষোভ সমাবেশ
9 জুলাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিপিএম ৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কল্যাণ মজুমদার ও খেতমজুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি তুষারকান্তি ঘোষ প্রমুখ ৷ তাছাড়া বুনিয়াদপুরের এসডিপিও-কে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি এদিন নিয়েছিল সিপিএম ৷ সেই কারণে এসডিপিও দফতর চত্বর পুলিশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় ৷

দক্ষিণ দিনাজপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷
দুপুর তিনটে নাগাদ শুরু হয় সিপিএমের কর্মসূচি ৷ প্রথমে তারা বুনিয়াদপুরে মিছিল করে ৷ মিছিল ট্রাফিক মোড় হয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দফতরের সামনে যেতেই উত্তেজনা ছড়ায় ৷ পুলিশের বিরুদ্ধে চলে বিক্ষোভ ৷ ব্যারিকেড ভাঙারও চেষ্টা করা হয় ৷ কিন্তু নেতৃত্বের নির্দেশে তা আর হয়নি ৷ উত্তেজিত কর্মীদের দিক থেকে একটি পাটকেলও পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ । যদিও কেউ আহত হননি । শেষে মিছিল ফিরে আসে পুরনো বাসস্ট্যান্ডে । সেখানে সমাবেশ মঞ্চ থেকে এসডিপি-র কাছে ডেপুটেশন দিতে যান কয়েকজন সিপিএম নেতা-কর্মী ।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷
সিপিএমের দাবি, বংশীহারী থানার আইসি অসীম গোপকে অপসারণ ও বরখাস্ত করতে হবে ৷ তা না-হলে আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিপিএম ৷
আরও পড়ুন:- বঙ্গোপসাগরে তৈরি ‘উইফা’ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলার কোন কোন জেলা ভাসবে ? লেটেস্ট আপডেট
আরও পড়ুন:- শিশুর বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাবা-মায়ের এই ভুল, অবশ্যই জেনে রাখুন














