Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে গত ৮ অগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে একচেটিয়া সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিল, তা শেষের মুখে বলে দাবি করল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। আইসিজি মনে করে, ঘরে-বাইরে নানাবিধ ইস্যুতে ‘সুখের দিন’ শেষ অন্তর্বর্তী সরকারের।
দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। জনসমর্থনে ভাটা পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আসিজি-র প্রতিবেদনে একটা দিশাও দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তার সদস্য দেশগুলি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সাহায্য করতে পারে। এ জন্য সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির মতো বিষয়ের উল্লেখ করেছে তারা।
কিন্তু, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দলগুলির মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্যের জন্য সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে তার আগে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারকাজ চালানোর সুপারিশ করেছে আইসিজি।
ক্রাইসিস গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার সুফল পেতে বাংলাদেশের জনগণের বাস্তবে আরও বেশ খানিকটা সময় লাগবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে এখনও টানাপড়েন রয়েছে। তা দূর করতেই হবে। সঙ্গে এ-ও মনে রাখতে হবে যে, অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’
অন্য দিকে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সংকটমুক্ত হয়নি। মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতি সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে, সরকারের সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল দেখাতে পারে বলে দাবি আসিজি-র। তাদের মতে, বাংলাদেশের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এগুলো কাজে লাগাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়েই।
আরও পড়ুন:– কী ভাবে ব্যবহার করবেন ভারতীয় রেলের ‘বুক নাউ পে লেটার’ সুবিধা? জানুন এক ক্লিকেই
আরও পড়ুন:– ‘গুলির আঘাতে ব্যান্ডেড’, কেন্দ্রীয় বাজেটকে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতা রাহুলের