জানলে অবাক হবেন,1983-তে বিশ্বকাপ জেতার পর পার্টি করার টাকা ছিল না কপিল দেবের

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

kapil dev

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- চলছে আইপিএল ৷ সারা পৃথিবী তাকিয়ে হারজিতের রঙ্গমঞ্চে। বিনোদন দুনিয়াতেও ক্রীড়াপিপাসুর অন্ত নেই। অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম। একটা সময়ে নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন। তা সে ক্রিকেট হোক বা ফুটবল। তবে, বেশি টান ছিল ক্রিকেটের প্রতি। খেলতেনও ভালো। একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে ছিল তাঁর দোস্তি। কপিল দেব থেকে সুনীল গাভাসকর, কিংবা চন্দ্রশেখর সকলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক তাঁর। অভিনেতা এবারেও নিয়মিত দেখছেন আইপিএল। মিস করেন না একটি ম্যাচও। নিজের ক্রিকেট প্রীতি নিয়ে ইটিভি ভারতের প্রতিনিধির সঙ্গে মুম্বই থেকে দূরভাষে দেদার আড্ডা দিলেন তিনি।

ছোট থেকেই খেলার প্রতি আগ্রহ আমার

খেলা ভালোবাসি ছোট থেকেই। তবে, ক্রিকেট বেশি ভালোবাসি আমি ৷ আইপিএল চলছে। একটা ম্যাচও মিস করি না। ক্রিকেট হল ‘লর্ড’স গেম’। এটা শেখায় সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা। যাইহোক আমি অনেক ছোট থেকেই বই আর কাগজে ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখি পড়ি। সেই থেকেই আগ্রহ জন্ম নেয়। বিজয় হাজারে, ভিনু মানকার, লালা অমরনাথের নাম কাগজ পড়েই জেনেছি এবং ওঁদের অনুরাগী হয়ে গিয়েছি। কোচবিহারে থাকাকালীন আমাদের স্কুলের স্পোর্টস টিচারের কাছে ক্রিকেট শিখতে চাই। উনিই আমাকে বল ধরা, ব্যাট ধরা, বোলিং করা, ব্যাটিং করা, ফিল্ডিং করা শেখান। ক্লাসের সব খেলায় আমি অংশগ্রহণ করতাম। অফস্পিন বল করাও উনিই আমাকে শেখান। এভাবেই আগ্রহ বাড়তে থাকে ক্রিকেটের প্রতি। এরপর কলকাতায় চলে আসি। ইডেনে খেলা দেখতে যেতাম। তখন গ্র‍্যান্ড হোটেলে, গ্রেট ইস্টার্নে প্লেয়াররা থাকত। ওখানে গিয়ে খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ নিতাম। সে একটা দিন ছিল।…

 

কান্তুর বন্ধু কল্যাণ বিশ্বাস, তারা বন্দ্যোপাধ্যায়, অম্বর রায়ের সঙ্গেও আমার আলাপ হয়। ওই সময়ে তো টিভি ছিল না। ট্রানজিস্টারে খেলার রানিং কমেন্ট্রি শুনতাম। সেই সময় বেরি সর্বাধিকারী, পিয়ারসন সুরিটার কমেন্ট্রি ছিল জনপ্রিয়। বেরি সর্বাধিকারী একবার একটা বই লিখেছিলেন, ‘মাই ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট’। সেখানে আমার একটা ক্রিকেটের কস্টিউম পরা ছবি ছেপেছিল। ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ফ্যান ছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ফ্র‍্যাঙ্ক বারেল, বিগস ওয়ালকাটদেরও। খুব ভাব হয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৎকালীন ক্যাপ্টেন আলভিন কালীচরণের সঙ্গে। সেই সময় আমি নিয়মিত আমার স্ত্রীকে নিয়ে ল্যাঙ্কেশ্বর লিগের খেলা দেখতে যেতাম। কালীচরণকে নিয়ে তো সুভাষ ঘাই ছবিও বানিয়েছিলেন।

ফিল্মস্টার আর ক্রিকেটারদের মধ্যে ম্যাচ লেগেই থাকত

সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব-সহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটার এবং মুম্বইয়ের স্টাররা মিলে গুয়াহাটিতে একটা ম্যাচ অর্গানাইজ করি। আমিই ছিলাম মূল উদ্যোক্তা। আসাম চিফ মিনিস্টার রিলিফ ফান্ড ক্রিকেট ম্যাচ ছিল ওটা। অনেক খেলোয়াড় এবং ফিল্মস্টার অংশ নেন সেই খেলায়। এ ছাড়া কলকাতাতেও এরকম অনেক চ্যারিটি ম্যাচ খেলেছি।
ইডেনে ফিল্ম স্টারদের ম্যাচে রাজ কাপুর, উত্তম কুমার, আমি সহ আরও অনেকে খেলেছি। সেই খেলায় অনেক অরিজিনাল ক্রিকেটারও খেলেছেন। কানন দেবী একাদশ বনাম হেমন্ত কুমার একাদশের সেই ম্যাচে মুস্তাকও খেলেছিলেন। আমার স্বপ্নের ক্রিকেটার উনি। কলকাতায় টেস্টে একবার মুস্তাককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্লোগান উঠেছিল কলকাতায় ‘নো মুস্তাক নো টেস্ট’।

তাঁর সঙ্গেও খেলেছি আমি। খেলেছিলেন এন চৌধুরী, লালা অমরনাথ। এরপর অন্য একটা ম্যাচে অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমার, শিবাজী গণেশান, অনিল চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিৎ মল্লিক, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, আমি-সহ আরও অনেকে খেলি। মুম্বই ভার্সেস বাংলার খেলা। সেখানে আমি আবার আসছি মুম্বই থেকে। ফলে সিলেকশন কমিটি বলে, “বিশ্বজিৎ তা হলে কাদের দলে খেলবে? মুম্বইয়ের হয়ে খেলবে নাকি বাংলার হয়ে?” রঞ্জিৎ মল্লিক ভালো বোলিং করত। ওপেনার ছিল। অনিল চট্টোপাধ্যায় ভালো ফিল্ডিং করত।

এরপর একবার দিল্লিতে ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট’ ভার্সেস ‘বলিউড স্টার’দের মধ্যে খেলা হয়, ফিরোজ শাহ খোসলা গ্রাউন্ডে। খুব ভালো খেলেছিলেন পার্লামেন্টের সদস্য মাধবরাও সিন্ডিয়া। মনোজ কুমার ছিলেন আমাদের ক্যাপ্টেন আর ওদের দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন বলরাম জাকার। সেই খেলাতেও কপিল, লালা অমরনাথ কয়েক ওভার করে খেলে চলে যান। খেলেছিলেন শশী কাপুর, জিতেন্দ্র, সঞ্জয় খান। মনে পড়ে, মাধবরাও সেদিন কপিলের বলে ছয় মারেন। দু’দিনের খেলায় ম্যান অফ দ্য ম্যাচ মাধবরাও হন।

তখন প্রায়ই ক্রিকেটার বনাম ফিল্ম স্টারদের খেলা হত। একবার আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে একটা টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ ঘাই। মিঠুন চক্রবর্তী, আমজাদ খান, বলবিন্দর সিং, ভেংসরকর অংশ নেন সেই খেলায়।

পতৌদি প্রায়ই লাঞ্চ ব্রেকে শর্মিলার শুটিংয়ে চলে আসতেন

অনেকেই বলে আমি কেন ক্রিকেটটাকে কেরিয়ার বানালাম না। আসলে অভিনয়ের প্রতিই পরের দিকে ঝোঁক বাড়ে। অনেকে এমনও বলত আমার ক্রিকেট খেলার ধরন নাকি নবাব পতৌদির সঙ্গে মিলে যায় কোথাও (সহাস্যে)। পতৌদি তখন ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন। সবাই ওঁর দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রায়ই আমার আর শর্মিলার একটা হিন্দি ছবির শুটিংয়ে লাঞ্চের সময়ে এসে হাজির হতেন উনি। শর্মিলার মেক আপ রুমে যেতেন। আর দরজাটা বন্ধ হয়ে যেত। তারপর ওখানেই কিছুক্ষণ প্রেম ট্রেম করতেন ওঁরা। তারপর তো একদিন বিয়ের চিঠি পেলাম শর্মিলার কাছ থেকে। বম্বে রেস কোর্সে রিসেপশন হয়েছিল ওঁদের। পতৌদির সঙ্গেও একটা সময়ে আমার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পুরনো কত কথাই মনে পড়ে যায়।…

চুনী-পিকে’র সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব ছিল

চুনী গোস্বামী আর পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। চুনী ক্রিকেট এবং ফুটবল দুই’ই ভালো খেলত। ক্রিকেটে রঞ্জি ট্রফি খেলেছে আবার ফুটবলেও ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন ছিল। স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডের বহু মানুষের সঙ্গেই আমার বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে নানা সময়ে। সানি গাভাসকর আমার জন্য হোটেলে টিকিট রেখে দিয়ে চলে যেত। ইন্ডিয়া টিম কলকাতায় এলে হোটেলে গিয়ে আমি ওদের মিষ্টি দইয়ের হাঁড়ি দিয়ে আসতাম। ওঁরা সেটা পাঁচ-ছয়দিন ফ্রিজে রেখে খেতেন। ক্রিকেটাররা আমার কাছে হিরো। আজও চন্দ্রশেখরের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। বেদি, চন্দ্রশেখর, প্রসন্ন এই তিন মহারথী ভারতীয় ক্রিকেটকে এক সময়ে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি সুনীল গাভাসকর থেকে কপিল দেব, শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কোন নাম বাদ দেবো? সৌরভের তো একটা ফুটবল দলও আছে। সৌরভ একবার পুরনো ফুটবলারদের সম্মানিত করেছিল। আমিও গিয়েছিলাম। সেদিন লতা মঙ্গেশকর প্রদীপ জ্বালিয়ে শুভ সূচণা করেন অনুষ্ঠানের।

আরও পড়ুন:- বিরাট সুখবর! রাজ্যে ৮২৫৬ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা। আবেদন চলছে অনলাইনে

ভারতীয় ক্রিকেট দলে একসময়ে ভালো বোলার ছিল না

আমাদের ভারতীয় ক্রিকেট দলকে এখন সারা বিশ্ব সম্মান করে। একটা সময়ে আমাদের টিমে ভালো বোলার ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের বোলিংয়ের সামনে আমাদের দল দাঁড়াতেই পারত না। ভালো স্পিনার ছিল কিন্তু ফাস্ট বোলার ছিল না। এখন আমরা অনেক সমৃদ্ধ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করেন সুনীল গাভাসকর। এরপর আমাদের বোলিং পাওয়ার যখন বাড়ল তখন আর কেউ পিছনে ফেলতে পারে না আমাদের। এখন তো বুমরা ওয়ার্ল্ড নম্বর ওয়ান বোলার। আমাদের ক্রিকেট টিমকে সারা বিশ্ব এখন স্যালুট করে।

ভারতীয় টিম সমৃদ্ধ হওয়ার পিছনে অবদান আইপিএল-এর

আমি তো বলব আমাদের ভারতীয় দলের আজ শক্তিশালী হওয়ার নেপথ্যে আইপিএল-এর একটা বড় ভূমিকা আছে । নানা দেশের খেলোয়াড়রা এসে ভারতীয় দলগুলির সঙ্গে খেলেন। ভারতীয় ক্রিকেটাররা তাঁদের সঙ্গে প্র‍্যাকটিস করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পরিশীলিত হচ্ছেন। ওঁদের টেমপারামেন্ট’টা বুঝতে পারছেন। ফলে, অন্যান্য টুর্নামেন্টে বিদেশি দলকে সামলে নিচ্ছে আমাদের দল। আইপিএল শুধুই একটা খেলার আসর নয়। এটা একটা ফুল প্যাকেজ। বিনোদন, অর্থ, বেটিং কী নেই একে ঘিরে? আমাদের সময়ে শুধু শীতকালেই বড় দল আসত খেলতে। তাই অপেক্ষা থাকত। এখন সারা বছরই কোনও না কোনও খেলা। কত ফান্ডিং হচ্ছে। এখন বাবা মায়েরাও চাইছেন তাঁদের ছেলেরা খেলোয়াড় হোক। ভাবছেন, চাকরি করে আর কত টাকা পাবে? তার থেকে খেললে অনেক টাকা। আর এটা সত্যি কথাই। এই ভাবনাতে কোনও অন্যায় আমি দেখি না।

বিশ্বকাপ জেতার পর পার্টি করার টাকা ছিল না কপিলদের কাছে

কপিল দেব একবার আমাকে বলেছিলেন, “এখন খেলে সবাই কত টাকা পায়। আমরা নাম মাত্র টাকা পেতাম তখন। 1983-তে লন্ডনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে পার্টি করার টাকা ছিল না আমাদের কাছে। ফলে, চাঁদা তুলে আমরা পার্টি করেছিলাম।” কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল কপিল দেবের দলই।

আমি ধোনিরও ফ্যান

বিশ্ব ক্রিকেটে ধোনির মতো ক্যাপ্টেন বিরল। ওঁর মতো ঠাণ্ডা মাথার ক্যাপ্টেন দেখা যায় না। দল হারলেও ওঁর কোনও এক্সপ্রেশন দেখা যায় না। যা আছে সব মাথায় আছে। ওঁর উইকেট কিপিং দেখে আমি এই আইপিএল-এও মুগ্ধ। কীভাবে চোখের পলকে স্টাম্পিং করল ফিল সল্টকে! ভারতীয় ক্রিকেট দলের নাম যাঁরা উজ্জ্বল করেছেন তাঁদের নাম বলে শেষ করা যাবে না। ভেনু মানকার, মুস্তাক আলি, গুলাম আলি, ভেংসরকর, গোপিনাথ, বিজয় মার্চেন্ট, সেলিম দুরানি, সৈয়দ কিরমানি।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র বলতেন…

আমার গুরু ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। অভিনয়ের পাশাপাশি গান এবং খেলা নিয়ে মাতামাতি সবই ছিল আমার। কীভাবে সব সামলাতাম এই প্রশ্ন করলে আমি বলি, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র আমাকে বলেছিলেন যখন যেটা করবে মন দিয়ে করবে। সুইচ অন অফ করতে শেখো। আমি সেটাই করে গিয়েছি বরাবর।

বুম্বার (ছেলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) মধ্যে খেলার প্রতি তেমন আগ্রহ দেখিনি

বুম্বা মাঝে মধ্যে একটু খেলত। বল টল কুড়িয়ে এনে দিত ওই অবধি। ও ওর নিজের মধ্যেই বেশি ব্যস্ত থাকত। খেলা দেখতে বেশি ভালবাসত। খেলতে নয়।

আরও পড়ুন:- চোখের পলকেই পেট্রোল পাম্পে এভাবেই বোকা বানানো হয়, কিভাবে কারচুপি ধরবেন? জানুন

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন