Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- একই পরিবারের সাত সদস্যের রহস্যমৃত্যু ! সোমবার গভীর রাতে হরিয়ানার পঞ্চকুলার 27 নম্বর সেক্টরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে ৷ রাস্তার ধারে পার্ক করা একটি গাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ৷ পবিরারটি উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা ৷
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ৷ গাড়িতে 6 জন অচেতন অবস্থায় ছিলেন ৷ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদেরকে 26 নম্বর সেক্টরের ওজাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা 6 জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অপর একজনকে, যাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করে সেক্টর 6-এর সিভিল হাসপাতালে আনা হয় ৷ সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷
পঞ্চকুলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) হিমাদ্রি কৌশিক বলেন, “আমরা খবর পাই যে ছয় জনকে ওজস হাসপাতালে আনা হয়েছে । আমরা ওখানে পৌঁছে জানতে পারি যে, তারা সবাই মৃত । আরেকজনকে সেক্টর 6-এর সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক । প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা । নিহতরা সকলেই পরিবারের সদস্য ৷”
সোমবার রাত 11টা নাগাদ পুলিশ ডায়াল 112-এ একটি কল পেলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ৷ তথ্যদাতা পুলিশকে জানান যে, বাইরে পার্ক করা একটি গাড়িতে কিছু লোক বসে ছিল, যারা খুব কষ্ট পাচ্ছিল । এই খবর পেয়ে, পুলিশের গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ৷ পুলিশের সদস্যরা গাড়িতে ছয় জনকে বসে থাকতে দেখেন ৷ যাদের অবস্থা খুবই খারাপ ৷ এর কিছুক্ষণ পরেই, যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা আরেকজন ব্যক্তি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন ৷
পুলিশি তদন্তে নিহতদের সকলের পরিচয় জানা গিয়েছে ৷ প্রবীণ মিত্তল, তাঁর বাবা দেশরাজ মিত্তল, মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পরিবারটি মূলত উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চকুলায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিল। তদন্ত শুরু করে পুলিশ পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনে সঙ্গে কথা বলেছে ৷
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মিত্তলের পরিবারের পরিবহণের ব্যবসা ছিল ৷ সম্প্রতি সেই ব্যবসায় মোটা টাকার ক্ষতি হয় ৷ আর তার জেরে বাজারে বিপুল ঋণ হয় পরিবারে ৷ সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা সম্ভব তা বুঝতে পারছিলেন না পরিবারের সদস্যরা ৷ এমতাবস্থায় অন্য কোনও উপায় না পেয়ে তাঁরা নিজেদের শেষ করে দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ ৷ তবে একই পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷
আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়
যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।
আরও পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন পোস্ট অফিস বন্ধ হচ্ছে। কেন? টাকা থাকলে কি করবেন? বিস্তারিত জানুন।













