এক দিনে বাজ পড়ে রাজ্যে মৃত্যু ১৭ জনের, বজ্রপাতের সময় কী ভাবে বিপদ এড়াবেন? জেনে রাখুন

By Bangla News Dunia Desk Bappaditya

Published on:

Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- বজ্রপাত-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুর হতেই একাধিক জেলায় আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। অনেক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হয়। আর সেই বজ্রপাতের ঘটনায় এ বার একাধিক জেলা থেকে মৃত্যুর খবর সামনে এল। বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রপাতে ১৭ জন মারা যান ও আহত হন সাত জন।

বাঁকুড়ার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস, জয়পুর ও পাত্রসায়ের থানা এলাকায় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দু’জন। জানা গিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে আমন ধানের চারা লাগাচ্ছিলেন কোতুলপুর থানার খিরি গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক মোল্লা (৫০) ও আসপিয়া মোল্লা। আচমকা বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনেই জমিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় গোগড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা জিয়াউল হক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আসপিয়া মোল্লা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বাঁকুড়ার ওন্দাতে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তাঁর নাম নারায়ণ সাওয়ার (৫০)। তাঁর বাড়ি ওন্দা থানার কামারকাটা এলাকায়। ইন্দাস থানার বাঙালচক এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে শেখ ইসমাইলের (৫৫)। আহত হয়েছেন বুলটি বাগদি নামে এক মহিলা। বাঁকুড়ার জয়পুর থানার খড়িকাশুলি গ্রামে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে উত্তম ভুঁইয়ার (৩৩)। পাত্রসায়রের হাটকৃষ্ণনগরে মাঠে চাষ করার সময়ে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে জীবন ঘোষের (২০)। এ ছাড়াও বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে বাঁকুড়ার রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা তিলকা মাল (৪৯) এবং ভাদুলডাঙ্গার বাসিন্দা জবা বাউরির (৩৮)। বজ্রপাতে মৃত্যুর আরও একজনের নাম এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’, কি কি সুবিধা পাবেন ? জেনে নিন

অন্য দিকে, পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের মাধবডিহির বাসিন্দা সনাতন পাত্র (৬০) আলমপুরে মাঠে চাষ করছিলেন। সেই সময়ে বাজ পড়ে। মাধবডিহি থানার পুলিশ তাঁকে জখম অবস্থায় আলমপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আউসগ্রামের ভেদিয়ার বাসিন্দা রবীন টুডু (২৫) রাধামাধবপুরে মামা বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ দিন তিনি দেয়াশা গ্রামের একটি জমিতে চাষের কাজ করছিলেন। সেই সময়ে বজ্রপাত হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গুসকরা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিজিৎ সাঁতরা (২৫) রায়না থানার তেণ্ডুলের বাসিন্দা। জমিতে চাষ করার সময়ে বাজ পড়ে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। বুড়ো মাড্ডি (৬৪) মঙ্গলকোটের চানক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা। তিনিও একই ভাবে বাজ পড়ে মারা গিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার মুইধারার বাসিন্দা পরিমল দাস (৩৫) মাধবডিহি থানার শেরপুরের জমিতে চাষ করার সময়ে এ দিন বাজ পড়ে মারা গিয়েছেন। সেই সঙ্গে ফতেপুরে চাষের জমিতে কাজ করার সময়ে মদন বাগদির (৬৮)-র মৃত্যু হয়েছে।

এ দিন সকালে শেখ নাসির ও তাঁর দুই ছেলে শেখ ইব্রাহিম ও শেখ হাসিব ভাতারের ভূমশোড় মাঠে ধান রোয়ার কাজ করতে গিয়েছিলেন। মাঠে থাকাকালীনই বজ্রপাতে তাঁরা আহত হন। ওই মাঠেরই অন্য প্রান্তে কাজ করছিলেন আলাউদ্দিন শেখ। তিনিও একই ভাবে আহত হন। এর পরে ভাতার থানার পুলিশ চার জনকে উদ্ধার করে ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। একই ভাবে মাধবডিহি থানার শেরপুড়ে জমিতে চাষ করার সময়ে আহত হয়েছেন টুম্পা দাস।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের ভগবন্তপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের লাহিরগঞ্জ এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে লক্ষ্মীকান্ত পানের (৪২)। লক্ষ্মীকান্তকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ধানের চারা বীজ তোলার সময়ে বজ্রপাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের মোহনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগবতীপুরের কমল সরকার (৫৬)-এর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও ধান রোপন করতে গিয়ে পুরুলিয়ার ঝালদায় গুরিডি গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে সুমিত্রা মাহাতোর (৪৫)।

বজ্রপাতের সময়ে কী ভাবে বিপদ এড়াবেন?

Bangla News Dunia Desk Bappaditya

মন্তব্য করুন